যেখানে থাকার কথা পড়ুয়াদের, সেখানে বাঁধা বিদেশি কুকুর! মধ্যপ্রদেশের সরকারি হস্টেলে হাড়হিম করা দুর্নীতি ফাঁস

পড়ুয়াদের থাকার জন্য সরকারি হস্টেলে বরাদ্দ হয়েছিল লাখ লাখ টাকা। অথচ সেখানে গেলে যে কারও চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হবে! মধ্যপ্রদেশের দতিয়া জেলার এক সরকারি এসসি (তফশিলি জাতি) হস্টেলে যে ভয়াবহ ও অমানবিক চিত্র সামনে এসেছে, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। ছাত্রদের খাবারের চালে পোকা থেকে শুরু করে পচা সবজির গন্ধে টেকা দায়—এমনকী যে ঘরে ছাত্ররা থাকে, সেখানে শৌখিন বিদেশি কুকুর বেঁধে রাখার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে যা দেখলেন তহসিলদার
ঘটনাটি ঘটেছে দতিয়ার ইন্দরগড় তহসিলের একটি ৫০ সীনট বিশিষ্ট সরকারি এসসি হস্টেলে। সম্প্রতি কিছু ছাত্র সংগঠনের তরফে এই হস্টেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার হস্টেলে হঠাৎ পরিদর্শনে যান তহসিলদার দীপক যাদব।
হস্টেলের কিচেনে ঢুকতেই তাঁর চোখ কার্যত চড়কগাছ হয়ে যায়। তিনি দেখেন, ছাত্ররা যে চালের ভাত খাচ্ছে, তাতে কিলবিল করছে পোকা। এছাড়া পচা ও烂 (পচে যাওয়া) সবজির এমন তীব্র ও ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল যে কিচেনের ভেতরে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অন্য খাদ্যসামগ্রীগুলির মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
শৌখিন কুকুর আর শূন্য হস্টেল!
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৫০ সিটের এই হস্টেলে পরিদর্শনের সময় মাত্র চার-পাঁচজন ছাত্রকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বাকি ছাত্ররা কোথায়? জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ছাত্ররা অভিযোগ করেন, ১৫ অগাস্টের পর থেকে এই হস্টেলে নিয়মিত রান্না করাই হয় না! অনিয়মিত রান্নার কারণে বাধ্য হয়েই বেশিরভাগ ছাত্র হস্টেলে থাকা বন্ধ করে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি, ছাত্ররা যেখানে রাত কাটায় বা বিশ্রাম নেয়, ঠিক সেই ঘরেই শিকল দিয়ে একটি বিদেশি नस्লের (বিদেশি জাতের) কুকুর বেঁধে রাখা হয়েছিল। কুকুরের খাওয়ার থালাও রাখা ছিল সেই একই জায়গায়। সরকারি হস্টেলের এই বেহাল ও লজ্জাজনক দশা দেখে হতবাক হয়ে যান তহসিলদার দীপক যাদব।
৪০ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হস্টেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই বিশাল বাজেটের অর্থেও বড়সড় দুর্নীতি ও নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগের আঙুল উঠেছে।
তহসিলদার দীপক যাদব জানিয়েছেন, হস্টেল সুপারিনটেন্ডেন্ট বা সুপারের আচরণ এবং সামগ্রিক অব্যবস্থা নিয়ে পড়ুয়ারা একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছে। পুরো পরিদর্শনের একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে ইতিমধ্যেই জেলা কালেক্টরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।