“যুদ্ধের মাধ্যমে কোনও সমাধান সম্ভব নয়!” আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে কড়া আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্বের সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো উচিত। কিরঘিজস্তানে আয়োজিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে ঠিক এই ভাষাতেই বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালো বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বজুড়ে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই কূটনৈতিক মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিন ও পাকিস্তানের সামনেই কড়া বার্তা: মঙ্গলবার এসসিও সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সংঘাতের সমাধানের একমাত্র পথ হল সংলাপ ও কূটনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই আহ্বান বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে।

সবচেয়ে নজর কাড়ার বিষয় হলো, এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। তাঁদের সামনেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনও দ্বিচারিতা বরদাস্ত করা যায় না। সন্ত্রাসের অর্থের জোগান, নিয়োগ, মৌলবাদী প্রচার এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল— সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামোই সমূলে ধ্বংস করতে হবে।” পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ও দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপটে মোদির এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।

সার্বভৌমত্ব ও করিডর প্রসঙ্গ: এদিন বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করলেও প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে দেন যে, অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান না করে কোনও প্রকল্পই এগিয়ে চলা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য মূলত চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর বা CPEC-এর দিকেই নির্দেশ করছে, যা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে গিয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের তীব্র আপত্তি রয়েছে। সবমিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে ভারতের এই স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান দেশের কূটনৈতিক শক্তিকেই ফের জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *