স্টিভ জবস ও কুকের পর এবার দায়িত্ব কার হাতে? অ্যাপল দুনিয়ায় এল বড় চমক

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির বাজারে এক বিশাল পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল মার্কিন টেক জায়ান্ট ‘অ্যাপল’ (Apple)। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের সফল কার্যকাল শেষ করে কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বা সিইও (CEO)-র পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন টিম কুক। স্টিভ জবস এবং টিম কুকের পর আধুনিক অ্যাপলের ইতিহাসে তৃতীয় প্রধান হিসেবে এই গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন জন টার্নাস (John Ternus)। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তিনি।
কে এই জন টার্নাস? টিম কুক মূলত সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্ট এবং অপারেশনের জন্য পরিচিত হলেও, নতুন সিইও জন টার্নাসের পুরো কর্মজীবন জুড়েই রয়েছে হার্ডওয়্যার এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছোঁয়া। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেওয়ার পর থেকে গত ২৫ বছরে সংস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন টার্নাস। ইন্টেল প্রসেসর থেকে নিজস্ব ‘অ্যাপল সিলিকন’-এ রূপান্তর করার মতো কোম্পানির অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নেপথ্যেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক থেকে শুরু করে অ্যাপল ওয়াচ ও ভিশন প্রো-এর মতো প্রিমিয়াম প্রোডাক্টের হার্ডওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সফল তদারকি করেছেন তিনি।
সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ: টিম কুকের প্রশংসিত ও সততাযুক্ত নেতৃত্বের পর এবার জন টার্নাসের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই (AI) যুদ্ধ। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সকে আরও উন্নত করা, সিরি (Siri)-কে শক্তিশালী করা এবং এআই কৌশলকে সঠিক দিশা দেখানোই হবে তাঁর প্রাথমিক কাজ। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের আসন্ন হার্ডওয়্যার ইভেন্টে জন টার্নাস তাঁর প্রথম বড় পাবলিক প্রেজেন্টেশনে আইফোন ১৮ সিরিজ ও কোম্পানির প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন জনসমক্ষে আনতে চলেছেন কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রেমীদের।