টাকার খনি হয়ে উঠল চিনির বাজার! এক মাসেই ৬০% পর্যন্ত লাভ, কোন কোন শেয়ারে উপচে পড়ছে বিনিয়োগকারীদের ভিড়?

দালাল স্ট্রিটে আগস্ট মাসটি অত্যন্ত চমৎকার প্রমাণিত হয়েছে সুগার বা চিনি সংক্রান্ত স্টকগুলির জন্য। বাজার চাঙ্গা থাকার পাশাপাশি এই সেক্টরটি বিনিয়োগকারীদের ঝুলি ভরিয়ে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। মূলত ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর কারণেই চিনি উৎপাদনকারী মিলগুলির শেয়ারে এই দুর্দান্ত জোয়ার দেখা দিয়েছে। তবে এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর স্টকগুলির ভ্যালুয়েশন ও আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

কোন কোন শেয়ারে বাজিমাত?

গত এক মাসে সুগার স্টকগুলির পারফরম্যান্স ছিল এককথায় চোখধাঁধানো। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলির রিটার্নের পরিসংখ্যান:

কোম্পানির নাম বর্তমান মূল্য (LTP) ৩১ জুলাইয়ের দাম রিটার্ন (%)
অবध शुगर অ্যান্ড এনার্জি ₹৮০৪.১৫ ₹৫০৪.৬৫ +৫৯.৩৫%
দ্বারিকেশ शुगर ইন্ডাস্ট্রিজ ₹৫১.২৩ ₹৩৭.১২ +৩৮.০১%
ডালমিয়া ভারত সুগার ₹৪৭৬.০০ ₹৩৫০.৯৫ +৩৫.৬৩%
মওয়ানা শুগার্স ₹১৪১.৮০ ₹১০৭.০০ +৩২.৫২%
ধামপুর সুগার মিলস ₹১৭১.০০ ₹১৩৫.১০ +২৬.৫৭%
বজাজ হিন্দুস্থান সুগার ₹২১.১৪ ₹১৬.৭৭ +২৬.০৬%
বলরামপুর চিনি মিলস ₹৬৪৮.৯০ ₹৫৮৬.৫৫ +১০.৬৩%

(তালিকায় ই.আই.ডি. প্যাডিস, ত্রिवेণী ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শ্রী রেणुকা শুগার্সের মতো নামী সংস্থাতেও ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গিয়েছে, তবে গোদাবরী বায়োরিফাইনারিজের শেয়ারে সামান্য পতন ঘটেছে।)

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ভ্যালুয়েশন বিতর্ক

শেয়ারগুলির এই ধামাকাদার দৌড়ের পর ভ্যালুয়েশন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাজার এখন আর সুগার মিলগুলিকে কেবল কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি হিসেবে দেখছে না, বরং তাদের গ্রিন এনার্জি বা সবুজ শক্তির প্রবক্তা হিসেবে মূল্যায়ন করছে। তবে আগামী দুই ত্রৈমাসিকের সম্ভাব্য মুনাফা ইতিমধ্যেই বর্তমান শেয়ারের দামে যুক্ত হয়ে গিয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

আগামী দিনের ট্রিগার ও বিনিয়োগ কৌশল

এই ইতিবাচক মোমেন্টাম ধরে রাখতে আগামী দিনে নতুন কিছু অনুঘটক বা ট্রিগারের প্রয়োজন হবে। সরকার যদি এথানলের দাম বাড়ায় কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে খারাপ আবহাওয়া জনিত কারণে) চিনির জোগান কম থাকায় বিশ্বব্যাপী উচ্চ দাম বজায় থাকে, তবে ভারতীয় মিলগুলি দীর্ঘ মেয়াদে আরও লাভবান হবে। তবে সরকারি নীতি বা এক্সপোর্ট কোটা সংক্রান্ত কড়াকড়ি এই গতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে শুধু চিনি উৎপাদন নয়, বরং এথানল উৎপাদন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী ব্যালেন্স শিটই কোনো কোম্পানির আসল ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এই পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞরা সুগার সেক্টরের মার্কেট লিডার হিসেবে ‘বলরামপুর চিনি মিলস’-কেই তাঁদের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *