নেপালের ভয়ংকর বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ভারতীয়দের দেহ শনাক্তকরণে কোন কড়া নিয়ম মানছে বিদেশ মন্ত্রক? জানুন খুঁটিনাটি

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ভারতীয় নাগরিকদের দেহ শনাক্তকরণ এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মৃতদেহগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করছে ভারতীয় দূতাবাস। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ধাপ অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রক্রিয়াটির শুরুতেই প্রতিটি মৃতদেহের ছবি তোলা এবং সমস্ত প্রাথমিক তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পোস্টমর্টেমের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ যাচাই করা হচ্ছে এবং মৃতদেহ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় দূতাবাসের সরাসরি সহায়তায় মৃতদেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

যদি ছবি বা নথিপত্রের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তবে ডিএনএ পরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মৃতের প্রথম-স্তরের আত্মীয়দের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মৃতদেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া, নেপালের বিভিন্ন এলাকায় যে মৃতদেহগুলি ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রেও পরিচয় শনাক্তকরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সমাধিস্থ করার আগেই সংশ্লিষ্ট মৃতদেহের ডিএনএ এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা ছাড়াই পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো জটিল কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা নেপালি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এমনকি, নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দলও ডিএনএ বিশ্লেষণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলি:

মৃতদেহের ছবি তোলা এবং যাবতীয় তথ্য নথিভুক্তকরণ।

পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা এবং মৃত্যুর কারণ যাচাই।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ।

পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কাজ।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের হাতে মৃতদেহ হস্তান্তর।

পরিচয় স্পষ্ট না হলে প্রথম-স্তরের আত্মীয়ের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।

সাময়িকভাবে সমাধিস্থ মৃতদেহের ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য সংরক্ষণ।

ভারতীয় দূতাবাসের পূর্ণ সমন্বয়ে দেহগুলি নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *