‘তোকে আমি মরতে দেব না, একমাস সময় দে!’ অনির্বাণকে ব্যান করার প্রতিবাদে ঠিক কী চরম লড়াই লড়েছিলেন দেব?

টলিউডের অন্যতম চর্চিত তারকা জুটি দেব এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় গত রবিবারই ঘোষণা করেছিলেন যে, অগাস্ট মাসের শেষ দিন অর্থাৎ সোমবার সকালে এক বিরাট চমক নিয়ে তাঁরা হাজির হবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল যে, তবে কি তাঁদের নতুন ছবি ‘দেশু ৭’-এর টিজার মুক্তি পেতে চলেছে, নাকি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিনেমার আসল নাম প্রকাশ্যে আনতে চলেছেন তারকা জুটি? অবশেষে সোমবার সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফেসবুক লাইভের শেষ পর্যায়ে নতুন ছবির টিজার মুক্তির কথা ঘোষণা করেন অভিনেতা দেব।

এদিনের এই আড্ডায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন দেব ও শুভশ্রী। তবে এই লাইভের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল টলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ব্যান বা বয়কট করার প্রসঙ্গটি। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ যখন অনির্বাণকে পুরোপুরি কোণঠাসা ও নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, সেই চরম সংকটের দিনেও ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে তাঁকে কাস্ট করার মতো বড় ও সাহসী পদক্ষেপ করেছিলেন দেব। শুধু তাই নয়, নিজের রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখে এর আগেও মিঠুন চক্রবর্তী কিংবা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ও ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার নজির গড়েছেন এই অভিনেতা-সাংসদ।

এদিনের লাইভে অনির্বাণ প্রসঙ্গে মুখ খুলে দেব স্পষ্ট ভাষায় জানান, “তোমার যোগ্যতা নেই বলে কাজ পাচ্ছো না, সেটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। কিন্তু তোমার শত শত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো রাজনৈতিক বা কুৎসিত কারণে তোমাকে জোর করে ব্যান করে দেওয়া হয়, তবে সেখানে আমার প্রবল আপত্তি আছে। আমি তখনই বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)-কে সমস্ত বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছিলাম। আমাদের দলেরই একজন নেতা যেভাবে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছিল, তাতে আমার স্পষ্ট মনে হয়েছিল যে আপনারা ইচ্ছে করলেই যাকে তাকে এভাবে ব্যান করে দিতে পারেন না।”

অনির্বাণকে বাঁচানোর সেই কঠিন লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে দেব আরও বলেন, “আমি তখন শুভশ্রীকেও পরিষ্কার বলেছিলাম যে, আমরা যদি একসঙ্গে কোনো সিনেমা করি, তবে সেই সিনেমায় অনির্বাণ থাকতেই হবে। আমি সমস্ত রকম লড়াই ও পরিণতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে, আমি অনির্বাণকে সিনেমায় নিচ্ছি কি না। কারণ অনেকেই ভয় পাচ্ছিলেন যে অনির্বাণকে নিলে তাঁদের নিজস্ব মেগার বা সিরিয়ালের কাজও বিপদে পড়তে পারে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

অনির্বাণের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কথোপকথনের কথা স্মরণ করে দেব জানান, “আমার এখনও পরিষ্কার মনে আছে, সেদিনের সেই ফোনটার কথা। ও আমায় ফোন করে বলেছিল, ‘বেঁচে আছি ভাই।’ তখন আমি ওকে কথা দিয়েছিলাম, তোকে আমি কোনোভাবেই মরতে দেব না—না পেটে, না পথে। তুই শুধু আমায় ঠিক একমাস সময় দে। ও আমাদের এই ছবির এক অমূল্য সম্পদ। যখন এই ছবি মুক্তি পাবে, তখন সবাই বুঝতে পারবে যে এই অনির্বাণকে এর আগে কেউ কখনও এমন রূপ দেখেনি।”

অনির্বাণের অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করে দেব আরও যোগ করেন যে, অনির্বাণ এমন একজন বিরল প্রতিভাবান অভিনেতা যিনি কমার্শিয়াল কমার্শিয়াল কমার্শিয়াল ছবি এবং ভিন্ন ধারার আর্ট ফিল্ম—উভয় মাধ্যমেই সমান পারদর্শিতায় অভিনয় করার অসামান্য ক্ষমতা রাখেন। এমন বহুমুখী প্রতিভা সবার মধ্যে থাকে না। তাই নিজের কেরিয়ারের ঠিক মধ্যগ্গনে পৌঁছেও এমন একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে ঘরে বসে থাকতে বাধ্য করা হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেব।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *