‘বোমা ফাটার মতো শব্দ, সব শেষ!’-নেপালের বিধ্বংসী বানে ভাসল সাজানো গ্রাম, শিউরে উঠছে বিশ্ব

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও সর্বগ্রাসী জলপ্রলয়ের ষষ্ঠ দিনেও উদ্ধারকাজে চরম বিপর্যয় কাটেনি। ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলায় জলের তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ। টানেলে টানেলে শুধুই কাদা-মাটি আর ঘন অন্ধকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির এই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা নিখোঁজ কর্মীর সংখ্যা এখনও অন্তত ৯৩৩। তাঁরা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুড়ঙ্গের ফাঁকফোঁকর দিয়ে অক্সিজেন পাম্প করার পাশাপাশি থার্মাল ড্রোন ও কাটার মেশিন দিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। চিন ও নেপাল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৩০০ ভারতীয় নাগরিক। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে বেড়াতে যাওয়া ৩০ জন পর্যটক এবং দুই ম্যানেজারসহ মোট ৩৭ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি গত সোমবার রাত পর্যন্ত। রাসুয়া থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলার ভরতপুরের দেবঘাট জঙ্গলে গণকবর খোঁড়ার কাজ চলছে, কারণ লাশের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই বিপর্যয়ের জন্য বেজিংয়ের দিকেই আঙুল তুলেছে কাঠমান্ডু। অভিযোগ উঠেছে, হিমবাহ গলনের চরম ঝুঁকির বিষয়ে তিন মাস আগে চিনের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও বেইজিং তা এড়িয়ে গেছে। হাইড্রোলজিস্টদের দাবি, প্রতি দশ মিনিটে হিমবাহের গতিপ্রকৃতি জানা থাকলে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত। যদিও চিন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে, বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল ও চিনের পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে। তবে কাদার পুরু স্তূপের কারণে সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকা এবং আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে, সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে দেবীঘাটের সেনাক্যাম্পগুলি। রাতেই আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠা ছোট্ট শিশু কিংবা সব হারানো বৃদ্ধার কান্নায় কাঁপছে নেপালের বাতাস। আকাশছোঁয়া ক্ষয়ক্ষতি ও লাশের মিছিল সামলে কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বিধ্বস্ত নেপাল, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *