কলকাতায় পা রাখতেই চরম বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা! ৯৯% হোটেল বন্ধ থাকায় ডাবল ভাড়ার ফাদে পকেট খালি

মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো যাচাই করতে নিউ মার্কেট ও তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসা ভিনরাজ্য তথা বাংলাদেশি পর্যটকরা।

৯৯ শতাংশ হোটেল বন্ধ, আকাশছোঁয়া ভাড়া

কলকাতা কর্পোরেশনের যৌথ টিম নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে গোলতলা চত্বর, কলিং স্ট্রিট, কলিং লেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩৫০টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের বেশিরভাগ অংশেই ক্লোজার নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ওই চত্বরের প্রায় ৯৯ শতাংশ হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ রয়েছে, খোলা রয়েছে মাত্র হাতে গোনা ৪-৫টি হোটেল।

আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু চক্র। যে দু’-চারটি হোটেল খোলা রয়েছে, তারা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করছে। সাধারণ ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার ঘরের ভাড়াও এখন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে

ঢাকা থেকে চিকিৎসা ও ঘুরতে আসা মনির হোসেন ও শাখাওয়াত হোসাইনের মতো বহু পর্যটক জানিয়েছেন, আগে থেকে টিকিট কাটা থাকলেও এয়ারপোর্টে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক শোনার পর তারা বিপদে পড়েছেন। কলকাতায় এসে হন্যে হয়ে হোটেল খুঁজেও মিলছে না, আর যা মিলছে তার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর এবং ভাড়া আকাশছোঁয়া।

তবে হোটেল মালিকদের সংগঠন (কলকাতা হোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর সম্পাদক রাজীব শেট্টি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিকাঠামো দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যে সমস্ত খোলা হোটেল অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে, সেই ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না সংগঠনটি। প্রশাসনের এই কড়াকড়িতে একদিকে যেমন শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে আগত পর্যটকদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *