৯০০ উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলকে মহম্মদ শামি! ভারতীয় পেসারদের এল্লিট ক্লাবে ঢুকে পড়লেন তারকা পেসার

পেশাদার ক্রিকেটে অনন্য নজির গড়লেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি। চলতি দলীপ ট্রফি ২০২৬-এর সেমিফাইনালের প্রথম দিনে সেন্ট্রাল জোনের বোলিং অলরাউন্ডার আরশাদ খানের উইকেট শিকার করে পেশাদার ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি, লিস্ট এ এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিলিয়ে এই বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি ভারতীয় পেসারদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে জায়গা করে নিলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির ঐতিহাসিক কীর্তি

ভারতীয় পেসারদের মধ্যে পেশাদার ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক কিংবদন্তি কপিল দেব (১১৭০টি উইকেট)। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জাহির খান (১১৬৮টি উইকেট)। এরপর যথাক্রমে রয়েছেন জয়দেব উনাদকাড় (৯৪১), জাভাগল শ্রীনাথ (৯৪০) এবং বিনয় কুমার (৯২৩)। এবার ৯০০ উইকেট নিয়ে এই অভিজাত তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে নাম লেখালেন শামি।

দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালের প্রথম দিনে অবশ্য শামির শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না। ম্যাচের শুরুতেই কাঁধে সমস্যা অনুভব করায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। ফিজিওর চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরে নিজের পুরনো মেজাজেই ধরা দেন তিনি। প্রথম দিনে মোট ১৬ ওভার বল করে ৩টি মেডেন সহ মাত্র ৪২ রান খরচ করে জোড়া উইকেট শিকার করেন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে সেন্ট্রাল জোনের প্রথম ইনিংস ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায়। ম্যাচ শুরুর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭৭, লিস্ট এ ক্রিকেটে ২৮৩ এবং টি-২০ ক্রিকেটে ২৩৮টি উইকেট ছিল তাঁর ঝুলিতে।

জাতীয় দলে ফেরার লড়াই কতটা কঠিন?

মাইলফলক ছোঁয়ার এই আনন্দময় দিনেও শামিভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কবে জাতীয় দলে ফিরবেন তিনি? জশপ্রীত বুমরাহ চোটে বাইরে থাকলেও বর্তমানে টেস্ট বা সাদা বলের দলে শামির ডাক মেলেনি। নির্বাচকদের নজরে এখন আকিব নবী, গুরনুর ব্রার এবং প্রিন্স যাদবের মতো তরুণরা।

তবে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের আগে ভারত ‘এ’ দল বা ইরানি কাপের স্কোয়াডে সুযোগ পেলে তা শামির প্রত্যাবর্তনের বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই দুর্দান্ত ফর্ম ও ৯০০ উইকেটের পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে তিনি আবারও জাতীয় দলের নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *