‘গ্রেফতার হয়েছেন, এবার জামিনের আবেদন করুন…’ বাংলার ক্রিকেটারের আর্জি খারিজ হাইকোর্টের

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর আইপিএলের এক তারকা ক্রিকেটারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই অভিযুক্ত ক্রিকেটারের আইনজীবী। কিন্তু সেই আর্জিতে সাড়া দিল না আদালত। উল্টে অভিযুক্তকে জামিনের আইনি পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের নির্ভরযোগ্য কিপার-ব্যাটার এবং বাংলার এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক মহিলা গুরুতর অভিযোগ আনেন। কর্নাটকের এক মেডিক্যাল পড়ুয়া তরুণীর দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। বছর দেড়েক আগে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। তবে সেসময় লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও, পরবর্তী সময়ে গত ২৩ জুন মগড়া থানায় গিয়ে ওই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারির পর থেকেই আইনি লড়াই শুরু করেছেন অভিযুক্ত ক্রিকেটারের আইনজীবীরা। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। আদালতের কাছে যুক্তি দেওয়া হয়, এই মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালীনই ওই খেলোয়াড়কে গ্রেফতার করা হয়েছে, অথচ এই মুহূর্তে এই আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় পৃথকভাবে জামিনের আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
যদিও সেই দ্রুত শুনানির আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, যেহেতু অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছেন, তাই তাঁর আইনজীবী যেন প্রচলিত নিয়মে জামিনের জন্য আবেদন জানান। আদালতের সুনির্দিষ্ট তালিকা মেনেই পরবর্তী মামলার শুনানি হবে বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই আইনি জট এবং গ্রেফতারির জেরে আইপিএলের এই তারকা ক্রিকেটারের কেরিয়ারে বড়সড় মেঘ ঘনিয়ে এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।