খুশকিই কি সব চুল ঝরিয়ে দিচ্ছে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

একসঙ্গে খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা শুরু হলে অনেকেরই রাতের ঘুম উড়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশে ঝরে থাকা একরাশ চুল কিংবা কালো জামার কাঁধে সাদা খুশকির আস্তরণ দেখে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এই জোড়া ধাক্কায় বেশিরভাগ মানুষই ধরে নেন যে খুশকিই বুঝি চুল গায়েব করার একমাত্র খলনায়ক।
তবে কৈলাশ দীপক হাসপাতালের ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. আরজু পাহওয়ার মতে, এই পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেকে ভাবেন খুশকি সরাসরি চুল ঝরিয়ে দেয়, কিন্তু আসল নেপথ্য কারণটি সম্পূর্ণ আলাদা।
স্ক্যাল্পে খুশকি জমলে মারাত্মক চুলকানি শুরু হয়। সেই চুলকানির চোটে নখ দিয়ে জোরে জোরে মাথা চুলকানোই কাল হয়। নখের আঁচড়ে মাথার সংবেদনশীল ত্বক ছড়ে গিয়ে ক্ষত তৈরি হয়, ফলে চুলের গোড়াগুলো আলগা ও নড়বড়ে হয়ে যায় এবং মুঠো মুঠো চুল ঝরে পড়ে।
পাশাপাশি, যেটাকে সাধারণ খুশকি বলে মনে করা হয়, তা আসলে অন্য কোনও কঠিন চর্মরোগও হতে পারে। যেমন—
সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: স্ক্যাল্প অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে হলুদ রঙের চামড়ার স্তর উঠতে থাকে।
সোরায়সিস ও একজিমা: মাথার ত্বক অসম্ভব খসখসে হয়ে লালচে ছোপ দেখা দেয়।
ফাঙ্গাল ইনফেকশন: ছত্রাকের সংক্রমণে মারাত্মক চুলকানি ও চুলের শিকড় দুর্বল হয়।
এই বিপদ সামলাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সাধারণ খুশকির জন্য জিঙ্ক বা সেলেনিয়ামযুক্ত এবং ছত্রাকের উপদ্রব থাকলে কেটোকোনাজোল জাতীয় অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু মেখেই ধুয়ে না ফেলে অন্তত ৩ থেকে ৫ মিনিট মাথায় লাগিয়ে রাখা দরকার।
একইসঙ্গে চুলকানির চোটে নখ দিয়ে মাথার চামড়া খামচানো এবং ভেজা চুল জোরে টানা বা শক্ত করে বাঁধা বন্ধ করতে হবে। তবে সব সতর্কতা সত্ত্বেও যদি চুল পড়া না কমে, তবে ঘরোয়া টোটকার ভরসায় না থেকে অবিলম্বে অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।