‘আগে পদ ছাড়ুন!’ এসসি-এসটি কোটা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর মধ্যে তুমুল লড়াই

এসসি-এসটি (SC-ST) সংরক্ষণ এবং সাব-ক্যাটেগরি বা উপ-শ্রেণীকরণের বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। আর এই জল গড়িয়েছে সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্দরেই। সংরক্ষণ নীতির পক্ষে-বপক্ষে অবস্থান নিয়ে এবার প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেন এনডিএ-র দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী— চিরাগ পাসওয়ান এবং জিতন রাম মাঝি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুজনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইস্তফার দাবিও তুলেছেন।
বিবাদের সূত্রপাত যেভাবে:
মূলত ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে এই উত্তাপের শুরু। আদালত রাজ্যগুলিকে এসসি ও এসটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে সাব-ক্যাটেগরি বা উপ-শ্রেণীকরণের অনুমতি দিয়েছিল, যাতে সমাজের পিছিয়ে থাকা সঠিক সুফলভোগীরা এর সুযোগ পান। সম্প্রতি হিন্দুস্থান আমাডা মোর্চা (HAM)-এর প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঝির ছেলে ও দলের নেতা সন্তোষ কুমার সুমন এই সাব-ক্যাটেগরি তৈরির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সংরক্ষণ ব্যবস্থার সিংহভাগ সুবিধা পাবে, আর অন্যরা বঞ্চিত থাকবে? মুসহার সম্প্রদায়ের মতো অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের স্বার্থেই এই পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চিরাগ বনাম মাঝি বাকযুদ্ধ:
মাঝি শিবিরের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করে ময়দানে নামেন লোক জনশক্তি পার্টি (LJP) প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এসসি/এসটি সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো সামাজিক বৈষম্য ও ঐতিহাসিক অনগ্রসরতা, একে কখনই অর্থনৈতিক বা ‘ক্লিম লেয়ার’-এর মাপকাঠিতে দেখা উচিত নয়। চিরাগ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যদি জিতন রাম মাঝি ও তাঁর দল সাব-কোটা বা ক্রিম লেয়ার চালুর এতই পক্ষে থাকেন, তবে তাঁরা কেন আগে নিজেরা এর সুবিধা নিচ্ছেন? তাঁদের আগে পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এর শুরু করা উচিত।”
চিরাগের এই মন্তব্যের পরেই চুপ থাকেননি প্রবীণ নেতা জিতন রাম মাঝি। তিনি পাল্টা তোপ দেগে বলেন, চিরাগ গরিব মানুষের স্বার্থের পরোয়া করেন না বলেই এমন মন্তব্য করছেন। বৃহত্তর জনস্বার্থে সংরক্ষণের এই পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি। যদি চিরাগের গরিবদের প্রতি দরদ না থাকে, তবে তাঁরই বরং পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন মাঝি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে এই সংঘাত এনডিএ জোটের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।