জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ফেরার আগেই স্কুলপড়ুয়ারা গড়ছে ‘টাইগার ক্লাব’! জানুন বক্সার এই তাক লাগানো উদ্যোগ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফের বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন দফতর। তবে শুধু জঙ্গলে বাঘ ছেড়ে দিয়েই দায়িত্ব সারছে না প্রশাসন, বরং বাঘের আগমনকে ঘিরে যাতে কোনো আতঙ্ক বা মানুষ-বাঘ সংঘাত তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই অভিনব সামাজিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই সচেতনতার প্রসারে এবার সবথেকে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে স্কুলপড়ুয়ারা।
স্কুলে স্কুলে তৈরি হচ্ছে ‘টাইগার ক্লাব’:
বন দফতর সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে ১৫ থেকে ২০ জন পড়ুয়াকে নিয়ে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ‘টাইগার ক্লাব’। এই ক্লাবের সদস্যদের বাঘের স্বাভাবিক আচরণ, গতিবিধি, খাদ্যাভ্যাস, জঙ্গলের বাস্তুতন্ত্র এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, হঠাৎ লোকালয়ে বাঘ চলে এলে বা জঙ্গলের কাছাকাছি তার মুখোমুখি হলে কী করণীয় এবং কী করা বিপজ্জনক— সেই বিষয়েও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে ছাত্রছাত্রীদের।
গ্রাম থেকে চা-বাগান—ব্যাপক সচেতনতা অভিযান:
স্কুলের গণ্ডির পাশাপাশি বক্সা টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন ৭৫টি গ্রাম, বনবস্তি এবং প্রায় ৩০টি চা-বাগান এলাকায় সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। বন দফতরের ২৫টি বিশেষ দল সরাসরি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাঘ সম্পর্কে সমস্ত ভুল ধারণা দূর করবে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও জানান, বাঘ সংরক্ষণের মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবর্তে সচেতনতা তৈরি করা। বক্সার জঙ্গলে বাঘ ফেরার আগেই ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।