মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেফতারির দাবি! হেস্টিংস থানায় এফআইআর হতেই চরম রাজনৈতিক তোলপাড়

হেস্টিংস থানায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ ওঠে। এই জল গড়ায় দূরদূরান্তে। এবার সেই ঘটনার রেশ ধরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আরজি কর-কাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু তাই নয়, এ দিন তিনি প্রকাশ্যেই মমতার গ্রেফতারির দাবি তোলেন।
মমতাকে গ্রেফতারের দাবি কেন?
শনিবার কলকাতা পুরনিগমে একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এফআইআর তো হওয়াই উচিত। আগের মুখ্যমন্ত্রী দিনের পর দিন যেসব অন্যায় কাজ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হল আরজি করের চিকিৎসক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। সেই ঘটনায় নির্মল ঘোষকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হবে না কেন? তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।” সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে দিয়ে সন্ধ্যার পর ময়নাতদন্ত করানো এবং দ্রুত দেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও করেন তিনি।
আদালতের নির্দেশ অমান্য ও অভিষেকের অফিস বিতর্ক:
আদালতের নির্দেশ অমান্য করার প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হাইকোর্ট বা কোনো কোর্টকেই মর্যাদা দেয়নি। কালকে যে সভা উনি করলেন, সেখানে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল গাড়ির মুভমেন্ট যেন না থামে। কিন্তু ওঁরা ট্রাফিক ও গাড়ির মুভমেন্ট নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
পাশাপাশি, সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে বেআইনি সাইনবোর্ড লাগানো এবং পুলিশ-প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন সবার জন্য সমান। বেআইনি নির্মাণ ও সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন করলে তা সে তৃণমূল বা বিজেপি যেই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।