নেপালের মতো সর্বনাশের অপেক্ষা নয়! উত্তরাখণ্ডে ১৩টি অতি সংবেদনশীল হ্রদ নিয়ে চরম সতর্কবার্তা জারি কেন্দ্রের

তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের জেরে সংঘটিত ভয়াবহ বিপর্যয় এবং শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় এবার চরম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল ভারত। নেপালের সঙ্গে ভৌগোলিক গঠনগত মিল থাকায় উত্তরাখণ্ডে একই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই কারণেই আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। নেপাল ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তড়িঘড়ি হিমালয় বলয়ের নিরাপত্তা ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র ও উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকার।

ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদ চিহ্নিতকরণ ও সেন্সর বসানোর নির্দেশ:

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি রাজ্যের সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদে (Glacial Lakes) অত্যাধুনিক সেন্সর এবং আগাম সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ (Early Warning System) বসানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন সচিব বিনোদ কুমার সুমন জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যজুড়ে মোট ১৩টি হিমবাহ হ্রদকে ‘অতি সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৪টি হ্রদের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই চামোলির ‘সরস্বতী তাল’ ও উত্তরকাশীর ‘কেদারতাল’-এ বিশেষজ্ঞদের বিশেষ দল সমীক্ষায় নামবে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ও প্রশাসনের প্রস্তুতি:

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) রিপোর্ট অনুযায়ী, তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ঘটে যাওয়া ওই তাণ্ডব মূলত একটি বিশাল আকারের হিমবাহ ধসের ফলেই হয়েছিল। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এমন অস্থায়ী হ্রদগুলির আয়তন ক্রমশ বাড়ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ফেটে হড়পা বান ডেকে আনতে পারে। এই ভয়াবহতা এড়াতে উত্তরাখণ্ডের প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রতিনিয়ত নজরদারি, উদ্ধারকাজের রুট চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় স্তরে সাইরেন ব্যবস্থা জোরালো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *