মালদা মেডিক্যালে ৮৯ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু! পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কী চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল বিশেষজ্ঞ কমিটি?

আগস্ট মাসের ২৭ দিনেই মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৮৯টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশমতো মালদায় এসে পৌঁছায় একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি। হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর শিশুমৃত্যুর কারণ ও প্রতিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন কমিটির প্রধান তথা প্রবীণ চিকিৎসক ডা. প্রলয় আচার্য।
কী জানা গেল পরিসংখ্যানে?
মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় জানান, চলতি মাসের গত ২৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার অর্থ দৈনিক মৃত্যুর হার প্রায় ৩.৩ জন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এটিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করা হলেও, বিশেষ করে ১৭ আগস্টের পর থেকে হঠাৎ করে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় (এমনকি একদিনে ১৮-১৯টি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত নজরে এসেছে) প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মৃত শিশুদের মধ্যে ৬০ জন পুত্রসন্তান এবং ২৯ জন কন্যাসন্তান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি শিশুর জন্মকালীন ওজন ছিল ১ কেজি ৮০০ গ্রামের নিচে। এছাড়া ঝাড়খণ্ড, মুর্শিদাবাদ ও গঙ্গারামপুর থেকে রেফার হয়ে আসা বেশ কিছু শিশুও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধানের পর্যবেক্ষণ:
স্বাস্থ্য ভবন নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ডা. প্রলয় আচার্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, শিশুমৃত্যুতে লাগাম পরাতে শুধু পরিকাঠামো নয়, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসা কর্মী ও চিকিৎসকদের মধ্যে সচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, “একজন মহিলার গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে প্রসবের সময় এবং পরবর্তী পর্যায়ে মা ও শিশুর সঠিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে সচেতনতার ক্ষেত্রে কিছু খামতি রয়েছে, যা দূর করতে আমরা কাজ শুরু করেছি।”
হাসপাতালের শিশু বিভাগ, সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিট (SNCU) এবং নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটের পরিকাঠামো ঘুরে দেখার পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।