‘মনে হচ্ছে আমার দ্বিতীয় জন্ম!’ বিধ্বংসী বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে অলৌকিক কায়দায় দেশে ফিরে কী বললেন তীর্থযাত্রীরা?

আকস্মিক হড়পা বান এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। প্রকৃতির এই তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি মানুষ। এই মহাপ্রলয়ের জেরে সেখানে আটকে পড়েছিলেন বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। তবে চরম বিপদের মুখে পড়েও অলৌকিক কায়দায় বেঁচে ফিরেছেন তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে তাঁরা নিরাপদে পা রেখেছেন চেন্নাই বিমানবন্দরে।

কীভাবে ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্ত?

সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো শিউরে উঠছেন ওই তীর্থযাত্রীরা। তাঁদেরই একজন বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, ঘটনার দিন হঠাৎ করেই বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে আকস্মিক হড়পা বান আছড়ে পড়ে এবং তাঁদের তিনটি বাসের কনভয়কে গ্রাস করতে উদ্যত হয়। সৌভাগ্যবশত, তাঁদের সামনের ও পেছনের বাস দুটি মাঝের বাসটিকে ঘিরে ধরে আংশিক রক্ষা করে। সেই সুযোগেই তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে বাসের ছাদে উঠে পড়েন এবং কষ্ট করে পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠেন। সেখানে একটি সশস্ত্র পুলিশ ক্যাম্পের দেখা মেলায় পুলিশ তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও শুধু নিজের ছোট মেয়ের মুখটাই বারবার মনে পড়ছিল বলে জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভ ও নিখোঁজদের স্বজনদের আকুতি:

ফিরে আসার পর এই ঘটনাকে নিজেদের ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন অন্য এক তীর্থযাত্রী কিরুবাথারি। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন যে এক নির্মম বাস্তব সত্য, তা আজ হাড়ড়ে হাড়ড়ে টের পাচ্ছি। বড়লোকদের ভুলের চড়া মূল্য সবসময় গরিবদেরই চোকাতে হয়।”

এদিকে, নেপালে উদ্ধারকাজে সমন্বয় সাধনের জন্য ইতিমধ্যেই দিল্লিতে তামিলনাড়ুর চার মন্ত্রীর একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। জলসম্পদ মন্ত্রী বুসি আনন্দ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে চেন্নাই বিমানবন্দরে সরকারি আশ্বাস মিললেও এখনও অনেক পরিবার প্রিয়জনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। সঠিক ও সরকারি তালিকা প্রকাশের দাবিতে ইতিমধ্যে মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও (PIL) দায়ের করা হয়েছে। ভয়াবহ সেই স্মৃতি কাটিয়ে বিধ্বস্ত তীর্থযাত্রীদের ঘরে ফেরা স্বস্তি দিলেও নিখোঁজদের জন্য উদ্বেগ কাটছে না পরিবারগুলোর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *