খাবার কমিয়েও কমছে না ওজন? পুজোর আগে মেদ ঝরাতে পুষ্টিবিদের এই ৪টি সহজ নিয়ম না মানলে পস্তাবেন!

পুষ্টিবিদের কাছে না গিয়ে আজকাল অনেকেই ওজন কমাতে গুগল বা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ডায়েট টিপসের উপর ভরসা রাখেন। কিন্তু সবার শরীর এক নয়, তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা কোনো নির্দিষ্ট পন্থা সবার শরীরে একইভাবে কাজ করবে না। এখানেই অনেকে মারাত্মক ভুল করে বসেন, যার ফলে লাভের চেয়ে শরীরের ক্ষতিই বেশি হয়। পুষ্টিবিদ রাখি চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন—এই তিনটি বিষয়ের উপরেই আপনার রোগা হওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে। অনেকেই অভিযোগ করেন যে তাঁরা খাওয়া কমিয়েও ওজন কমাতে পারছেন না।

কেন ওজন কমে না? মূল চাবিকাঠি হলো বিপাকহার (Metabolism)

পুষ্টিবিদদের মতে, এ ক্ষেত্রে মূলত বিপাকহারের উপর নজর দেওয়া দরকার। বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমেই শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে। বিপাকহার বাড়লে শক্তিক্ষয় দ্রুত হয়, আর বিপাকক্রিয়া শ্লথ হলে ওজন বৃদ্ধি এবং শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই ওজন কমাতে গেলে বিপাকক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

মেদ ঝরাতে মেনে চলুন এই কার্যকর উপায়গুলি:

  • প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান: প্রতিদিনের পাতে বেশি করে প্রোটিন রাখুন। প্রোটিন হজম করার সময় শরীর অনেক বেশি ক্যালোরি ঝরাতে সক্ষম হয়। এছাড়া ব্রেকফাস্ট ভারী রাখা এবং রাতের খাবার তাড়াতাড়ি সেরে নেওয়া ভীষণ দরকার।

  • পর্যাপ্ত জল পান করুন: নিয়ম করে পর্যাপ্ত জল খেলে শরীরের বিপাকীয় হার বাড়ে। ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে জল খাওয়া উচিত। সাধারণ জলের পাশাপাশি লস্যি, ডিটক্স ওয়াটার বা ডাবের জলও ডায়েটে রাখতে পারেন।

  • সঠিক ঘুম ও শারীরচর্চা: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যেই উঠে একটু হাঁটাচলা করুন। পাশাপাশি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি, কারণ ঘুম না হলে বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থূলতা বা ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে কর্টিসল ও বিটাট্রফিন হরমোন নিঃসরিত হয়, যা বিপাক প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয়। তাই উদ্বেগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। কোনো নতুন ডায়েট বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রুটিন অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *