‘চিনির দাম আরও বাড়ুক!’ শিশুদের জন্য সস্তা, আর বড়দের জন্য কেন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই মন্ত্রী?

দেশে চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে, ঠিক সেই সময়ই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসল মধ্যপ্রদেশের প্রবীণ মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। ইনদওরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি দাবি করেন, চিনির দাম আরও বেশি হওয়া উচিত। তবে এর পাশাপাশি শিশুদের জন্য সরকারি ফেয়ার প্রাইস শপে সস্তায় চিনি পাওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেও, ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য চিনি একেবারে নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের নেপথ্যে কী?

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় রসিকতার সুরে বলেন, বর্তমানে নাকি ৯০ শতাংশ মানুষই মিষ্টি পছন্দ করেন না এবং তিনি নিজেও মিষ্টি খান না। তাঁর মতে, চিনির দাম আরও বাড়ানো উচিত। তবে ছোটদের কথা মাথায় রেখে সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানে তা কম দামে মিলতে পারে। কিন্তু ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেই মানুষের চিনি খাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত বলে দাবি করেন তিনি। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এই বয়সের পর চিনির বদলে মাঝেমধ্যে গুড় খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের মরসুমের আগেই বর্তমানে সর্বভারতীয় স্তরে খুচরো চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৬৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চিনির এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির জন্য বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি জানানো হলেও বাজারদর নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।

এরই মধ্যে মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র এই ধরনের ‘হালকা মেজাজের’ মন্তব্য আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি জিতু পাটওয়ারি এই মন্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষ যখন দিশাহারা, তখন মন্ত্রীর এহেন বক্তব্য দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতি একপ্রকার উপহাসের শামিল। উৎসবের ঠিক আগে চিনির দাম ও এই রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *