স্কুল-কলেজের আইনি লড়াইয়ে তালাবন্দি ঋষি রাজনারায়ণ-অরবিন্দের ঐতিহাসিক বাড়ি! ক্ষোভে ফেটে পড়ল পরিবার

স্কুল ও কলেজের আইনি লড়াইয়ের জেরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক সাক্ষী। মেদিনীপুর কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুলের মালিকানা সংক্রান্ত দীর্ঘ মামলার বেড়াজালে সিল হয়ে পড়ে রয়েছে ঋষি রাজনারায়ণ বসু এবং ঋষি অরবিন্দ ঘোষের স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক বাসস্থান। অযত্ন আর অবহেলায় আজ ভগ্নপ্রায় ও আগাছাপূর্ণ হয়ে উঠেছে একদা বিপ্লবীদের গুপ্ত সমিতির কার্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক ভবনটি। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার এই বাড়িটি সংরক্ষণ এবং হেরিটেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দুই বিপ্লবীর পরিবার।

বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৮৪০-৪১ সালের দিকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক আবাসনটিতে ১৮৫১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে সপরিবারে বসবাস শুরু করেছিলেন রাজনারায়ণ বসু। ঋষি অরবিন্দ ঘোষের মাতামহ ছিলেন তিনি। ১৮৬১ সালে এই বাড়ি থেকেই ঋষি অরবিন্দের মাতা স্বর্ণলতাদেবীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোপন বৈঠক এবং গুপ্ত সমিতির বহু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো এই বাড়ি থেকেই। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই বাসভবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্কুল-কলেজের দ্বৈরথ ও আইনি জট

বর্তমানে এই ঐতিহাসিক বাড়ির দখল নিয়ে মেদিনীপুর কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুলের মধ্যে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলছে। কলেজের দাবি, এটি তাদের প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, অন্যদিকে স্কুলের দাবি বাড়িটি তাদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ। দুই পক্ষের এই আইনি জট ও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় দীর্ঘকাল ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেদিনীপুরের এই ঐতিহাসিক কৃতি পুরুষের স্মৃতিচিহ্ন।

পরিবারের আকুল আবেদন

রাজনারায়ণ বসু ও অরবিন্দ ঘোষের পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য রাহুল ঘোষ ও সাগরিকা ঘোষ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, একদিকে যখন রাজনারায়ণ বসুর জন্মদিবস উদযাপিত হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনটি চরম অবহেলায় জঙ্গলে ঢেকে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটিকে দ্রুত সংস্কার করে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মিউজিয়াম হিসেবে এর দরজা খুলে দেওয়া হোক—এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তারা। মেদিনীপুর কলেজের ইতিহাস বিভাগ এবং সচেতন মহলের অনেকেও এবার সরকারের হস্তক্ষেপে এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ বাঁচানোর জোরালো দাবি তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *