ভিন্ন রাজ্যে কাজের লোভ দেখিয়ে নেপালে পাচারের ছক! এসএসবি-র তৎপরতায় উদ্ধার ৪ নাবালিকা সহ ৬ যুবতী!

সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের চরম সতর্কতায় এক বিশাল মানব পাচারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ হলো। বৃহস্পতিবার রাতে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কির ‘ওল্ড ব্রিজ’ এলাকায় রুটিন তল্লাশি চালানোর সময় চারজন নাবালিকা ও দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক যুবতীকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে নেপালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নির্মল দেববর্মা এবং চিন্ময় বসাক নামের দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে এসএসবি। ধৃতদের মধ্যে একজনের বাড়ি ত্রিপুরায় এবং অন্যজন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বাসিন্দা।

কীভাবে ফাঁস হলো পাচার চক্র?

এসএসবি সূত্রের খবর, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ওই তরুণী ও নাবালিকাদের গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকলে বর্ডার ইন্টারেক্টিভ টিম (বিআইটি)-এর জওয়ানরা তাঁদের পথ আটকান। এরপর রানিডাঙার অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU), এনজিও ‘কোশী লোক মঞ্চ’ এবং গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে এক আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য মানব পাচার চক্রের হদিশ মেলে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি মূলত ত্রিপুরা এবং জলপাইগুড়ি এলাকার কমবয়সি মেয়েদের বিভিন্ন আকর্ষণীয় কাজের প্রলোভন দেখাত। এরপর কোচবিহার ও নেপালের বিরানিটগরের একটি ড্যান্স বারের ম্যানেজারের মধ্যস্থতায় তাঁদের সীমান্ত পার করে নেপালে পাচারের ছক কষা হয়েছিল।

পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ

উদ্ধার হওয়া ৪ নাবালিকা এবং ২ যুবতীর বাড়ি উত্তর ত্রিপুরা, ধলাই ও খোয়াই জেলায়। সীমান্ত এলাকায় প্রাথমিক কাউন্সিলিংয়ের পর তাদের এবং ধৃত দুই পাচারকারীকে খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মেয়েদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে এই আন্তর্জাতিক চক্রের অন্যান্যের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *