বিশ্ব বাণিজ্যে বিরাট মোড়! যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের পথে ইরান ও ওমান, আমেরিকার সামনে কড়া শর্ত

বিশ্ব জ্বালানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়ে বড় দাবি করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এই মর্মে একটি সমঝোতা হয়েছে।

আমেরিকার সামনে একগুচ্ছ শর্ত

তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মার্কিন পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। আমেরিকার সামনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রেখেছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে— পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো, বিশেষ করে গাজা ও লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সিরিয়ার ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা। রেজাই সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে, তবেই এই রুটের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন সামুদ্রিক করিডোর ও কড়া হুঁশিয়ারি

বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রণালীর মাঝখানে একটি নতুন সামুদ্রিক করিডোর স্থাপন করা হয়েছে, যা দিয়ে আপাতত সীমিত ও অস্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র আস্থার অভাব রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন রেজাই। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে এই অঞ্চলে মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কড়া পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের তেল বাণিজ্যের মূল ধমনী এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এমন কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *