বাংলার শিল্পীর জাদুতে মুগ্ধ আমেরিকা-জার্মানি! বিয়ের সাজসজ্জায় তাক লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ঝড় তুললেন এই বাঙালি তরুণী!

বাঙালি বিয়ের চিরাচরিত রীতিনীতিতে আধুনিক শৈল্পিক ছোঁয়া এনে স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল ও অনন্য নজির গড়লেন নদিয়ার কৃষ্ণনগর নতুনবাজারের তরুণী প্রজতি গড়াই। বিয়ের নানা উপকরণ—যেমন কুলো, গাছকৌটো, সিঁদুরকৌটো, পানপাতা এবং বিয়ের তত্ত্বসূচিতে নিজের হাতের তুলির টানে অপূর্ব আলপনা ফুটিয়ে তুলছেন তিনি। আর তাঁর এই নিখুঁত শিল্পকর্ম এখন শুধু জেলা বা রাজ্যের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, সারা ভারত পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে আমেরিকা, জার্মানি ও হংকংয়ের মতো উন্নত দেশের ক্রেতাদের কাছেও।

শখের শুরু ১০০ টাকা আর মায়ের উৎসাহে

ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি গভীর টান ছিল প্রজতির। সর্বভারতীয় শিক্ষা পরিষদ থেকে অঙ্কনে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি শান্তিনিকেতন থেকে আলপনার বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ২০২২ সালে সমাজমাধ্যমে অন্যের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুরুর দিনে প্রজতির মা স্বপ্না গড়াই তাঁকে মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে তিনটি কুলো কিনে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। সেই তিনটি কুলোতে আলপনা এঁকে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই একের পর এক বরাত আসতে শুরু করে। বর্তমানে বিয়ের মরশুমে তাঁর তৈরি সামগ্রীর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। ছোট কুলো ৪০০ টাকা, বড় কুলো ৫০০ টাকা, গাছকৌটো ৫০০ টাকা, সিঁদুরকৌটো ৩৫০ টাকা এবং পানপাতা ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি গৃহসজ্জা ও পুজোর প্যান্ডেল সাজানোর জন্যও তিনি কাস্টমাইজড ফরমায়েশ নিচ্ছেন।

পরিবারের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

এই সাফল্যে তাঁর পরিবারের অবদান অপরিসীম। দূর-দূরান্তে নিরাপদে পার্সেল পাঠানোর জন্য তাঁর বাবা তৈরি করেছেন ১-২ কেজির বিশেষ হালকা অথচ মজবুত বাক্স প্যাকিং, যার ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ডেলিভারি খরচের বোঝা বইতে হয় না।

বাবা-মায়ের পূর্ণ সমর্থনে আজ সফল এই তরুণী ভবিষ্যতে নিজের একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি, এলাকার আরও অনেক নারীকে এই শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী ও আর্থিকভাবে স্বাধীন করে তোলাই প্রজতির মূল লক্ষ্য।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *