AI-এরও আছে টাকার লোভ, গবেষণায় ফাঁস হলো মারাত্মক সত্য!

সার্চ ইঞ্জিন ও ই-কমার্সের দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চ্যাটবটের ব্যবহার রাতারাতি বদলে দিচ্ছে কেনাকাটার ধরন। কিন্তু প্রযুক্তির এই জয়যাত্রার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ানক আশঙ্কা। আমেরিকার প্রখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, এআই এজেন্টের মাধ্যমে তথ্য বা পণ্য খোঁজার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি।
গণমাধ্যম ‘সেমাফোর’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এআই চ্যাটবট যে সমস্ত পণ্যের সুপারিশ করবে, তা কি আদতে ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে সেরা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো বিজ্ঞাপনদাতার মোটা অঙ্কের টাকা—তা যাচাই করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবহারকারী যদি একটি নতুন টোস্টার কেনার জন্য এআই-এর পরামর্শ চান, আর নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তুতকারক কোম্পানি ওই চ্যাটবটকে অর্থ দিয়ে নিজেদের পণ্য সামনে নিয়ে আসে, তবে ব্যবহারকারী কীভাবে বুঝবেন যে তিনি সত্যিই সেরা বা সাশ্রয়ী পণ্যটিই পাচ্ছেন?
শুধু শপিং বা কেনাকাটার ক্ষেত্রই নয়, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো অতি সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও এই স্বার্থের সংঘাত বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। যদিও গবেষকদের মতে, এআই এজেন্ট যদি এতটাই বুদ্ধিমান হয় যে ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর বিপণন চিনে ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তবে ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও বিজ্ঞাপননির্ভর নিখরচায় এআই চ্যাটবটের ওপরই ভরসা করে থাকেন, যার ফলে নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নীতি চালুর দাবি উঠেছে। কোনো এআই চ্যাটবটের সুপারিশের পেছনে আর্থিক স্বার্থ বা বিজ্ঞাপনদাতার গোপন যোগসাজশ থাকলে তা ব্যবহারকারীকে আগাম জানানো বাধ্যতামূলক করার মতো আইন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এআই-এর জটিল ও অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এই নিয়মগুলি কার্যকর করাও বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাই বিশাল এই বাজার সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে কঠোর নীতিমালা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।