কেক কেটে মোমবাতি নেভানোর আসল রহস্য কী? জানলে চমকে উঠবেন!

জন্মদিন মানেই সুন্দর কেক আর তার ওপর জ্বলতে থাকা রঙিন মোমবাতি। আলো নিভিয়ে এক ফুঁয়ে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটা আজ গোটা দুনিয়ার প্রধান রেওয়াজ। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, মিষ্টি খাবার হিসেবে কেক আর মোম জ্বালানোর এই অদ্ভুত নিয়মটি ঠিক কোথা থেকে এল?

ইতিহাসবিদদের মতে, বিশেষ দিন উদযাপনের এই চমৎকার ভাবনার প্রথম সূচনা হয়েছিল প্রাচীন মিশরের হাত ধরে। সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং ফারাও বা রাজাদের যেদিন রাজমুকুট পরানো হত, সেদিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হত। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত, রাজ্যাভিষেকের পর রাজা মানুষ থেকে ঈশ্বরে পরিণত হন এবং এটিই তাঁদের আসল নতুন জন্মের দিন।

মিশরীয়দের এই রাজকীয় ধারণার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে মিষ্টি কেকের সংযোগ ঘটিয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের মানুষ। তারা তাদের চাঁদের দেবী ‘আর্টেমিস’-কে খুশি করার জন্য গোল চাঁদের মতো দেখতে বিশেষ কেক তৈরি করত। খাঁটি মধু আর ময়দা দিয়ে তৈরি এই গোল কেক দেবীর মন্দিরে নৈবেদ্য হিসেবে উৎসর্গ করার মাধ্যমেই কেকের আসল চল শুরু হয়। গ্রিকরাই প্রথম সেই চাঁদের আকৃতির কেকের ওপর জ্বলন্ত মোমবাতি বসানোর রীতি চালু করেছিল। চাঁদের স্নিগ্ধ ও উজ্জ্বল আলোর রূপ ফুটিয়ে তুলতেই এই আয়োজন করা হতো।

মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভানোর পেছনের রহস্যটিও গ্রিকদের তৈরি এক চমৎকার বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। তাদের ধারণা ছিল, মোমবাতি নেভানোর পর যে ধোঁয়া সোজা আকাশের দিকে উড়ে যায়, তা মানুষের মনের সুপ্ত ইচ্ছেকে সরাসরি ভগবানের কাছে পৌঁছে দেয়। এই প্রাচীন ভাবনা থেকেই আজকের দিনে মোমবাতি নেভানোর আগে চোখ বন্ধ করে ‘উইশ’ করার নিয়ম চালু হয়েছে।

অন্যদিকে, জার্মানির ‘কিন্ডারফেস্ট’ নামের এক প্রাচীন প্রথা থেকে জন্মদিনের মোমবাতি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেখানে শিশুদের জন্মদিনে কেক বা রুটির মাঝে একটি বড় মোমবাতি সারাদিন জ্বালিয়ে রাখা হত, যা জীবনের আলো ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক ছিল। ইউরোপের মধ্যযুগে আবার বিশ্বাস করা হত, জন্মদিনের দিনে মানুষের ওপর অশুভ শক্তির নজর থাকে। তাই অশুভ শক্তিকে দূরে রাখতে সারাদিন মোমবাতির আগুন জ্বালিয়ে রাখা এবং চিৎকার-চেঁচামেচি ও গানবাজনা করার রীতি ছিল।

এককালে শুধু সমাজের রাজা বা ধনী অভিজাত পরিবারের মানুষরাই ঘটা করে জন্মদিন উদযাপনের সুযোগ পেতেন। সাধারণ মানুষ তখন কেবল সন্তদের দিন পালন করত। তবে সময়ের নিয়মে সমস্ত ভেদাভেদ মুছে আজ তা সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই পরের বার জন্মদিনে মোমবাতি নেভানোর সময় মনে রাখবেন, আপনি হাজার বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যের সঙ্গেই পা মেলাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *