নেপালে মারণ বান! ৪৬৯ জনের মৃত্যুর পরেই ভারত-আমেরিকার সাহায্য ফেরালো কাঠমান্ডু? নেপথ্যে কোন ভয়ংকর রহস্য?

ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকরাও রয়েছেন। এমন সংকটের মুহূর্তে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্ধারকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল সরকার।
নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নিজস্ব সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম বা উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীও (NDRF) সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে কাঠমান্ডু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। নেপাল প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার ও ত্রাণকার্য সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য তাদের নিজেদের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীই সম্পূর্ণভাবে সক্ষম। তবে এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে অতিরিক্ত বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
তবে উদ্ধারকারী দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, বিদেশি আর্থিক অনুদান এবং ত্রাণসামগ্রী সানন্দে গ্রহণ করছে নেপাল সরকার। বিদেশি সহায়তার তদারকিতে একটি বিশেষ ‘ওয়ান ডোর মেকানিজম’ বা একক প্রবেশদ্বার নীতি চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫ লক্ষ ডলার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে পাঠানো হয়েছে জরুরি ওষুধ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের তরফে ইতিমধ্যেই সাড়ে ৩৭ টন ত্রাণসামগ্রী, জীবনদায়ী ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী নেপালে পৌঁছে গেছে। পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন পর্বে পরবর্তীতে আরও আর্থিক সাহায্য চাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী বন্যায় ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫১ জন মালয়েশীয় ও ৫৩ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকসহ ৩৬টিরও বেশি দেশের মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি চিনের অন্তত ১০০ জন নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বন্যায় আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় আটকে থাকা প্রায় ২০০ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধারে তৎপরতার সঙ্গে কাজ চলছে।