আইপিও খুলতেই তবলার মার! এক ধাক্কায় ১০০ শতাংশেরও বেশি লাভ, শেয়ার বাজারে পা রাখতেই ঝড় তুলল এই কোম্পানি

শুক্রবার শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত অভিষেক ঘটল টেমসেন্স ইনস্ট্রুমেন্টস (Tempsens Instruments)-এর। অত্যন্ত চড়া জিএমপি (GMP) এবং চোখধাঁধানো লিস্টিং গেইনের হাত ধরে বাজারে এসেই রীতিমতো ঝড় তুলেছে এই কোম্পানি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE) কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত হয়েছে ৬৩৪ টাকায়। যেখানে এর আইপিও প্রাইস ব্যান্ড ছিল প্রতি শেয়ারে মাত্র ২৮৫ থেকে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক মূল্যের তুলনায় লিস্টিং প্রিমিয়াম এসেছে প্রায় ১১১.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জেও (BSE) শেয়ারটি ৬৩১.২০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়েছে, যেখানে লিস্টিং গেইন ছিল ১১০.৪০ শতাংশ। এই শক্তিশালী অভিষেকের ফলে শেয়ার বাজারে কোম্পানিটির মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫,২৯১.৫২ কোটি টাকায়। সহজ কথায়, আইপিওতে বিনিয়োগ করা টাকা মাত্র একদিনেই দ্বিগুণ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই পাবলিক ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে মোট ৬৫০ কোটি টাকা তুলেছে।
কিনবেন, বেচে দেবেন নাকি ধরে রাখবেন?
এমন দুর্দান্ত লিস্টিং গেইনের পর বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক যে, এই শেয়ার ধরে রাখা উচিত নাকি বিক্রি করে দেওয়া ভালো। এই বিষয়ে মূলত দুটি দিক উঠে আসছে। প্রথমত, বর্তমান ভারতীয় শেয়ার বাজার একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে কর্পোরেট ভ্যালুয়েশন নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) প্রতিক্রিয়া এবং অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল। তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী না হলে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত শেয়ারের দাম কিছুটা নামার আশঙ্কা থেকেই যায়।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাজার দখল
তবে দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটি সম্পূর্ণভাবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের কথা বলছে। ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অটোমেশন বিপ্লবের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর ভর করেই এই মত তৈরি হয়েছে। কান্তিলাল ছাগনলাল সিকিউরিটিজের রিসার্চ অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ভিপি মহেশ এম ওঝা জানিয়েছেন, ভারতের শিল্প অটোমেশন, স্থানীয়করণ এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রসারে টেমসেন্স অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানির নিখুঁত পজিশনিং এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাজারে তাদের একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া কোম্পানির মার্কেট লিডারশিপ, হাই-এন্ট্রি-ব্যারিয়ার বিজনেস মডেল, শক্তিশালী গ্রোথ প্রফাইল এবং স্বাস্থ্যকর ব্যালেন্স শিট দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য একে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্বল্প ঋণ এবং শক্ত ভিত্তি
কোম্পানির ঋণ ও ইক্যুইটির অনুপাত মাত্র ০.২x, যা অত্যন্ত কম। একই সঙ্গে তাদের পণ্য পোর্টফোলিও বেশ বৈচিত্র্যময়। দেশের বাজারে শক্তপোক্ত জায়গা তৈরির পাশাপাশি তাদের একটি শক্তিশালী রফতানি বাজারও রয়েছে। দেশের তাপমাত্রা পরিমাপক (টেম্পারেচার সেন্সিং) এবং বিশেষায়িত কেবল শিল্পে টেমসেন্স একটি পরিচিত নাম। সার্বিক তাপমাত্রা সেন্সর সেগমেন্টে তাদের ১০.৫ শতাংশ এবং নন-কন্ট্যাক্ট টেমারেচার সেন্সরে ২১.৩ শতাংশ বাজার দখল রয়েছে, যেখানে তারা একমাত্র দেশীয় প্রস্তুতকারক।
(ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। শেয়ার বাজার বা আইপিও-তে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)