বৃষ্টির জলে ভাসছে শহর! ইস্তফা দিয়ে পালিয়েছিলেন পুরনো কাউন্সিলররা, ১০০ দিনে কী করলেন অগ্নিমিত্রা?

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাকে পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। শহর পরিষ্কার রাখার কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিজেই সকাল থেকে সন্ধে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। তবে নতুন সরকারের এই ১০০ দিনের পথচলা যে একেবারেই সহজ ছিল না, বরং পদে পদে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। সম্প্রতি টিভি৯ বাংলার এক কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে নিজের দফতরের কাজের খতিয়ান ও অতীত পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
‘আগের সরকারের কাউন্সিলর ও মেয়ররা ইস্তফা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন’
দফতরের বেহাল দশা এবং দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রথমে দেখতে হবে যে কোন অবস্থাতে ডিপার্টমেন্টকে, বিশেষ করে আমার ডিপার্টমেন্টকে পেয়েছিলাম। তাও আবার বর্ষাকালে। আগের সরকারের কাউন্সিলররা চলে গেলেন ইস্তফা দিয়ে। মেয়র সাহেবরা চলে গেলেন। চেয়ারম্যানরা চলে গেলেন। যাঁরা থাকলেন, তাঁরা কেউ কাজে আসতেন না।”
এমন এক অচল অবস্থা ও চরম সংকটের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্বাধীন দফতর কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান, কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, শিলিগুড়ি এবং বিধাননগরে যাতে বর্ষার জল জমে না যায়, তার জন্য গোটা টিমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। জল নিষ্কাশনের জন্য পাম্প বসানো থেকে শুরু করে ড্রেন পরিষ্কার করার মতো জরুরি কাজগুলো দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজও সমান্তরালে চলছে। মন্ত্রী আরও জানান, তাঁদের দফতরের মূল এবং প্রধান কাজ হলো আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বা গার্বেজ ম্যানেজমেন্ট (Garbage Management) সঠিকভাবে পরিচালনা করা। যেহেতু এই দফতরটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই প্রশাসনের কাজ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াটাই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
মানুষের কাছে পৌঁছতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ:
সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার কথা সরাসরি সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে একাধিক কার্যকর মাধ্যম চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ‘মুখোমুখি’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি দফতরে এসে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারছেন।