ডুরান্ড ফাইনালের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল বিষাদে! মৃত্যুর পরেও অমর হয়ে রইলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থক!

প্রিয় দলের ডুরান্ড জয় দেখার পরেই মর্মান্তিক পরিণতি! মৃত্যুর পরেও অঙ্গদানে একাধিক প্রাণ বাঁচালেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থক সৌমেন
ইস্টবেঙ্গল অন্তপ্রাণ এক কট্টর সমর্থকের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলে। সাধের দল ডুরান্ড কাপ জেতার আনন্দ উপভোগ করার মুহূর্তেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপর্যয়। মোহনবাগানকে হারিয়ে লাল-হলুদ দল যখন উল্লাসে মাতোয়ারা, ঠিক সেই সময়ই হৃদরোগ ও সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন কল্যাণী সেন্ট্রাল পার্কের বাসিন্দা ৫৮ বছরের সৌমেন দাশগুপ্ত। তবে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্যেও ঘটে গেল এক মানবিক ও অলৌকিক ঘটনা। মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদানের সিদ্ধান্তের জেরে নতুন জীবন পেলেন একাধিক মুমূর্ষু রোগী।
কীভাবে ঘটেছিল এই বিপর্যয়? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার ডুরান্ড কাপের ফাইনাল বড় ম্যাচ চলাকালীন টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন সৌমেনবাবু। তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে প্রথমে স্থানীয় এবং পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার তাঁর ব্রেন ডেথ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।
মরণোত্তর অঙ্গদানে নতুন জীবনের আলো: প্রিয়জনের এমন আকস্মিক চলে যাওয়ার শোক সামলে এক মহৎ সিদ্ধান্ত নেন তাঁর স্ত্রী দীপান্বিতা দাশগুপ্ত ও চিকিৎসক পুত্র সৌম্যদীপ দাশগুপ্ত। তাঁরা সৌমেনবাবুর মরণোত্তর অঙ্গদানের সদিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিবারের এই উদার মানসিকতার ফলেই কল্যাণীর এই বাসিন্দার ফুসফুস, দুটি কিডনি এবং দুটি কর্নিয়ার মাধ্যমে কলকাতা ও গুরুগ্রামের মোট পাঁচজন রোগীর শরীরে পুনর্জন্ম হয়েছে। গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ফুসফুস দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছে গুরগাঁওয়ের হাসপাতালে প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়া কিডনি ও কর্নিয়াও সফলভাবে অন্য রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মৃত্যুর পরেও যিনি অঙ্গদানের মাধ্যমে সমাজকে আলো দিয়ে গেলেন, তাঁর এই প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে গোটা ফুটবল মহল।