টিকিট নেই মানেই বিনা টিকিটে সফর নয়! রেল দুর্ঘটনা কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে স্বস্তি পেলেন যাত্রীরা

রেল দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত যাত্রীদের আর্থিক সাহায্য প্রদান সংক্রান্ত এক মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর এই রায়ের ফলে রেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি পথ আরও অনেকটাই প্রশস্ত হলো।

ঠিক কী ছিল মামলার প্রেক্ষাপট?
রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিল রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল মৃতের পরিবার। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার মতো চরম এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাত্রীর কাছে টিকিট না থাকা মানেই তিনি বিনা টিকিটে সফর করছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো একেবারেই ঠিক নয়। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় বা পরবর্তী সময়ে যাত্রীর টিকিট নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তাই শুধুমাত্র ‘টিকিট পাওয়া যায়নি’—এই একক যুক্তির ওপর ভিত্তি করে রেল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই মৃত বা আহত যাত্রীর পরিবারের ক্ষতিপূরণের দাবি খারিজ করতে পারে না।

বিচারপতি চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বৈধ টিকিটে ভ্রমণ করছিলেন কি না, তা প্রমাণ করার জন্য অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করতে হবে। এই যুক্তির ভিত্তিতে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের পূর্বের রায় খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, যথাযথ নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করতে হবে।

আইনি মহলের প্রতিক্রিয়া
আইনজীবীদের একাংশের মতে, কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় আগামী দিনে রেল দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বহু বকেয়া মামলার ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। বহু পরিবার অতীতে শুধুমাত্র টিকিটের প্রমাণের অভাবে আইনি লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ত। এই রায়ের ফলে সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি খুব সহজেই ন্যায়বিচার পাবে এবং আর্থিক সুরাহার পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *