‘ওকে পুরো রসগোল্লার মতো লাগছে!’ মা হওয়ার পরই চরম ট্রোলের মুখে ক্যাটরিনা কাইফ

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হলেন। মা হওয়ার পর তাঁর শরীরে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসায় তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে কটূক্তির ঝড়। তবে এই অসংবেদনশীল আক্রমণের মুখে চুপ থাকেননি অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। ট্রোলদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ক্যাটরিনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটে ২৬ আগস্ট, ২০২৬-এ। স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে মুম্বইতে চলচ্চিত্র নির্মাতা কুক্কু কোহলির শেষকৃত্যে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। ২০২০ সালের নভেম্বরে তাঁদের ছেলে ভিহান কৌশলের জন্মের পর থেকে ক্যাটরিনা খুব একটা জনসমক্ষে আসেননি। ফলে এই বিরল উপস্থিতি ক্যামেরাবন্দি হতেই তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই অভিনেত্রীর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয় কুরুচিকর মন্তব্য।

নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, “ওর কী হয়েছে?” কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে লেখেন, “এটা ভয়ংকর, ক্যাটরিনার কী হল?” এমনকি তাঁকে রসগোল্লার সঙ্গে তুলনা করতেও পিছপা হননি অনেকে। এক জন আবার মন্তব্য করেন, “ক্যাটরিনা কাইফ পুরো বদলে গিয়েছেন, আগে খুব সুন্দর ছিলেন, এখন বয়স্ক মহিলার মতো লাগছে।” কেউ আবার তাঁর হাঁটাচলা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে নাতাশার সঙ্গে তুলনা টেনেছেন।

তারকামহলে সৌন্দর্যের অবাস্তব চাপ
ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে এই অনলাইন আক্রমণ আবারও প্রমাণ করল যে, তারকা মহিলাদের রূপ ও শরীর নিয়ে সমাজ ঠিক কতটা অসহিষ্ণু। সন্তান প্রসবের পর একজন নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই নানা পরিবর্তন আসে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে মেনে নিতে নারাজ নেটিজেনদের একাংশ। মাতৃত্বের পর মহিলাদের শরীর কেমন হওয়া উচিত, তার যেন এক অদৃশ্য মাপকাঠি তৈরি করে রেখেছে সমাজ।

ভক্তদের কড়া প্রতিবাদ
অযাচিত এই সমালোচনার বিরুদ্ধে অবশ্য রুখে দাঁড়িয়েছেন ক্যাটরিনার অনুগামীরা। শত শত ভক্ত একজোট হয়ে ট্রোলদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। অনুরাগীদের স্পষ্ট বার্তা, মাতৃত্বের মতো একটি সুন্দর অনুভূতির পর একজন নারীর শারীরিক পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। মহিলাদের সবসময় নিখুঁত ও স্লিম ফিগার বজায় রাখতে হবে—সমাজের এই মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে ক্যাটরিনার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর ভক্তকুল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *