‘কখনও ভাবিনি অভিনেতাকেই বিয়ে করব!’ নাগা চৈতন্যের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মুখ খুললেন শোভিতা

বিয়ের পর সাধারণত একসঙ্গে পথ চলার নতুন সফর শুরু হয়। কিন্তু তারকা দম্পতি শোভিতা ধুলিপালা (Sobhita Dhulipala) ও নাগা চৈতন্যের (Naga Chaitanya) ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল একদম আলাদা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধুমধাম করে গাঁটছড়া বাঁধলেও, কড়া পেশাগত ব্যস্ততার জেরে বিয়ের প্রথম বছরটিতে দু’জনের দেখা হতো মাসে মাত্র একবার! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের দাম্পত্য জীবনের (Sobhita Chaitanya marriage) এই অজানা ও চাঞ্চল্যকর দিকটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে শোভিতা জানান, বিয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি ছবির শুটিংয়ের কাজে তাঁকে সুদূর তামিলনাড়ুতে চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে টানা ১৫০ দিনেরও বেশি সময় কাটাতে হয় তাঁকে। ফলে বিয়ের প্রথম বছরটা দুজনেই নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে চরম ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়েছেন।
দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন সমীকরণ
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে শোভিতা বলেন, “বিয়ের প্রথম বছরটায় আমাদের হয়তো মাসে মাত্র এক দিন দেখা হতো। তাই দাম্পত্যের এই নতুন সমীকরণটা বুঝে উঠতেই আমাদের বেশ কিছুটা সময় লেগে গেছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে আমরা ধীরে ধীরে এই জীবনটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। একটা বিষয় আমরা দুজনেই ভালো বুঝি, আর তা হলো—দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, সম্পর্কের বাঁধন মজবুত রাখাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
ছোটবেলার বিয়ের স্বপ্ন এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে কিছুটা যে ফারাক থাকে, তা অকপটে মেনে নিয়েছেন শোভিতা। তিনি জানান, তিনি কখনো ভাবেননি যে কোনো অভিনেতাকে বা নিজের রাজ্যেরই কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন। তবে নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর বরাবরই বিশেষ টান ছিল। শোভিতার কথায়, “আমি কখনো ভাবিনি যে একজন অভিনেতাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পাব। তবে ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল, আমার বিয়েটা যেন একদম আমাদের নিজস্ব লোকসংক্রান্ত রীতিনীতি ও সংস্কৃতি মেনে হয়। সেই ফ্যান্টাসিটা আমার রূপ পেয়েছে।”
প্রেম থেকে রাজকীয় বিয়ে
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে হায়দরাবাদে আংটি বদল করেছিলেন শোভিতা ও নাগা চৈতন্য। এরপর ওই বছরেরই ৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের অন্নপূর্ণা স্টুডিওতে প্রথাগত তেলুগু রীতি মেনে তাঁদের জমকালো বিবাহানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। কাজের সূত্রে শুরুতে অনেকটা সময় একে অপরের থেকে দূরে কাটাতে হলেও, বর্তমানে সমস্ত দূরত্ব পেরিয়ে দু’জনেই নিজেদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে সুখের দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন।