সামান্য বৃষ্টিতেই মিলেনিয়াম সিটিতে ভয়ঙ্কর জলবন্দি দশা! গুরুগ্রামের এই করুণ ছবি দেখে শিউরে উঠবেন

এক পশলা বৃষ্টিতেই কার্যত জলের তলায় তলিয়ে গেল দেশের অন্যতম আধুনিক ‘মিলেনিয়াম সিটি’ গুরুগ্রাম। সামান্য বর্ষাতেই সাইবার সিটির বিস্তীর্ণ রাস্তায় জল জমে যখন নাজেহাল অবস্থা হাজার হাজার সাধারণ মানুষের, ঠিক তখনই এই জলযন্ত্রণা ঘিরে হরিয়ানায় শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক তরজা। একদিকে একসময়ের প্রাকৃতিক নিকাশি নালা বুজিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাক্তন শাসকদল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিজেপি সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিং। অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার পেছনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করার পরেও কেন পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ল, সেই প্রশ্ন তুলে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস।

জলযন্ত্রণা ও নিকাশির পুরনো জট
গুরুগ্রামের চারবারের সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিং দাবি করেছেন, বর্তমানে জল জমা আটকাতে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলি আসলে সাময়িক বা কেবল ক্ষতে মলম লাগানোর মতো ব্যাপার। তাঁর মতে, কংগ্রেসের শাসনকালে নির্বিচারে নির্মাণের জেরে আরাবল্লী পর্বতমালা থেকে যমুনা নদী পর্যন্ত জল যাওয়ার পুরনো প্রাকৃতিক নালাগুলি সম্পূর্ণ বুজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পিছনে সেটাই সবচেয়ে বড় কারণ। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০০৯ সালে যখন ইন্দ্রজিৎ সিং প্রথমবার সাংসদ হন, তখন তিনি কংগ্রেস দলেই ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং তারপর থেকে একটানা রাজ্যে বিজেপিই ক্ষমতায় রয়েছে।

এই দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ হিসেবে তিনি মেট্রোর ধাঁচে আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ টানেল তৈরির অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুরনো নালাগুলির পথ অনুসরণ করে যদি মাটির তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ বা ড্রেনেজ টানেল তৈরি করা যায়, তবেই বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারবে। এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ ও ২৪ অগাস্টের ভয়াবহ চিত্র
ইন্দ্রজিৎ সিংয়ের এই মন্তব্যের পরেই বিজেপি শিবিরকে নিশানা করতে আসরে নেমেছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। তাঁর কড়া প্রশ্ন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের নামে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা জলে ফেলার পরেও কেন শহরের পরিকাঠামো এত সহজেই ধসে পড়ল? রাস্তায় জল জমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং সাধারণ মানুষের এই অকথ্য দুর্ভোগের জন্য তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ অগাস্ট সকালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই বেহাল দশা হয়েছিল সাইবার সিটির। শহরের ব্যস্ত সুভাষ চকে জলের তলায় আটকে গিয়েছিল প্রায় ৯টি স্কুল বাস সহ ১৫টি গাড়ি। যার জেরে প্রায় ৩০০ জন খুদে পড়ুয়া দীর্ঘ দু’ঘণ্টা ধরে গাড়িতেই আটকে থাকে। এমনকি দিল্লি-জয়পুর জাতীয় সড়কের সার্ভিস লেনের একাংশ ধসে গিয়ে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এতটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায় যে, পরের দিন অর্থাৎ ২৫ অগাস্ট বাধ্য হয়ে জেলার সমস্ত সংস্থাকে কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশিকা জারি করতে হয় জেলা প্রশাসনকে।

প্রাকৃতিক ঢালু জমি এবং আরাবল্লী পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ার কারণে গুরুগ্রাম এমনিতেই জলমগ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। কিন্তু তার ওপর অপরিকল্পিত নগরোন্নয়ন এবং বেআইনিভাবে নালা বুজিয়ে ফেলার ফলেই যে সামান্য বৃষ্টিতে এমন মহাবিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, তা নিয়ে এখন বিশেষজ্ঞদের অন্দরেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *