১২ বছরের অপেক্ষা শেষ! প্রতিদিন ১ কোটি পুণ্যার্থীর স্নানের প্রস্তুতিতে রেকর্ড বাজেট অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের

পুণ্যস্নানের কথা উঠলেই সবার আগে মনে আসে কুম্ভমেলার কথা। এছাড়া গঙ্গাসাগর সহ দেশের বিভিন্ন পবিত্র নদীর জলে স্নানের পরম্পরা তো রয়েছেই। তবে এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম পবিত্র গোদাবরী নদীর জলে পুণ্যস্নানের বিশেষ ঐতিহ্যও রয়েছে, যা ‘গোদাবরী পুষ্করম’ নামে পরিচিত। প্রতি ১২ বছরে মাত্র একবার এই মহোৎসব পালিত হয়, যা টানা ১২ দিন ধরে চলে। এর আগে এটি ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং দীর্ঘ অপেক্ষা পেরিয়ে আগামী ২০২৭ সালে ফের তা উদযাপিত হতে চলেছে।
কবে থেকে শুরু হবে গোদাবরী পুষ্করম?
আগামী ২০২৭ সালের ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত গোদাবরী নদীর বিভিন্ন ঘাটে এই পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘাট বা স্থানে নয়, বরং এই ১২ দিনের যেকোনো একদিন পবিত্র গোদাবরীর জলে ডুব দেওয়া পুণ্যার্থীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কাঙ্ক্ষিত।
হাতে এখনো তিনশোর বেশি দিন সময় থাকলেও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এখন থেকেই এর যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু গোদাবরী পুষ্করম সফল করতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশাসনের বিশাল আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, গোদাবরী পুষ্করমের দিনগুলিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি করে পুণ্যার্থী গোদাবরীর জলে পবিত্র ডুব দেবেন। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে ৪৪০টি ঘাট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫৯টি ঘাট থাকলেও সেগুলির আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১৮১টি ঘাট তৈরি করা হচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার দিকটি সুরক্ষিত রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। উৎসবটিকে নিখুঁত ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৪,০২৬ কোটি টাকার বিরাট বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।