জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ ভারতের, কড়া জবাব পররাষ্ট্র মন্ত্রকের

জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য নিরসন কমিটির (ইউএনসিইআরডি) ভারত-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। পররাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রতিবেদনে যে সমস্ত প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। একই সঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই কমিটি গঠনেও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল ভারত।

জেনেভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইসিইআরডি-র একাদশ পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা বৈঠকের পরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। গত ১১ ও ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভারত গঠনমূলক মনোভাব নিয়েই অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। বৈঠকের পর জেনেভায় অবস্থিত ভারতীয় মিশন ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে যে ধরনের অবাস্তব ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সঙ্গেই খারিজ করে দিচ্ছে ভারত।

পর্যালোচনা বৈঠকে ভারতের সাংবিধানিক সুরক্ষাব্যবস্থা, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ভারতের দাবি, ১৯৬০-এর দশকে এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনের খসড়া প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশের। কিন্তু বর্তমান পর্যালোচনার সময় কমিটি ঢালাও সাধারণীকরণ ও কনভেনশনের পরিধি লঙ্ঘন করার মতো প্রবণতা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি। তবে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনেই কমিটির মন্তব্যের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জেনেভায় ফিনল্যান্ড, হন্ডুরাস, ভারত এবং কুয়েতকে নিয়ে আয়োজিত অধিবেশনের পরই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘ কমিটি। ভারতের তফসিলি জাতি, উপজাতি, দলিত এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। এমনকি জাতিগত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং দীর্ঘকালীন আটকের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *