গমের বাজারে বিরাট স্বস্তি! নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ভারতের দরজা খুলে গেল বিশ্ব বাজারের জন্য

দেশের গমের বাজার এবং মজুত পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে একটি বড় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ডুরম গম-সহ সব ধরনের গমের রফতানির উপর এতদিন ধরে যে নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল, তা পুরোপুরি তুলে নিয়ে ফের একে ‘মুক্ত’ তালিকায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আটা, ময়দা, সুজি এবং হোলমিল আটার মতো সমস্ত ধরনের গমজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও আগের সমস্ত কড়া বিধিনিষেধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা ডিজিএফটি (DGFT)-র তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বড় নীতিবদলের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গম উৎপাদক ও রফতানিকারকদের জন্য ব্যবসা প্রসারের এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।
নীতিবদলের নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই কেন্দ্র ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন গম এবং অতিরিক্ত ৫ লক্ষ মেট্রিক টন গমজাত পণ্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল। তখন সরকারের প্রধান যুক্তি ছিল, দেশের গুদামগুলিতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বাজারে গমের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে এবং নতুন ফসল ওঠার সময় কৃষকদের যাতে জলের দরে ফসল বিক্রি করতে না হয়, তা নিশ্চিত করা।
তবে আজকের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাজার পরিস্থিতি। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২২ সালের মে মাসে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে লাগামছাড়া দামবৃদ্ধি আটকাতে ভারত সরকার গমের রফতানি নীতি ‘মুক্ত’ থেকে এক ধাক্কায় ‘নিষিদ্ধ’ করে দিয়েছিল। সেই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের জোগান নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং ভারতীয় গমের চাহিদা হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের খাবার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সেই সময় কড়া হাতে রফতানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল কেন্দ্র।
কৃষক ও রফতানিকারকদের জন্য বিরাট সুযোগ
দীর্ঘ চার বছর পর রফতানির কড়াকড়ি পুরোপুরি তুলে নিয়ে ফের ‘মুক্ত’ শ্রেণিতে নিয়ে আসায় দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ মজুত বজায় রেখেই এবার আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গম ও গমজাত পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পাবেন, তেমনই রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।
তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বাড়ার কারণে যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হয় কিংবা গমের দাম ফের সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়, তবে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও কড়া নজর থাকবে। সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত মজুতকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।