মাছ খাওয়া নিয়ে এআই ছবি ভাইরাল করার হুমকি! বিজেপিকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়ের

শ্রাবণ মাসে মাছ ভোজের বিতর্ককে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। এই ইস্যুতে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়কে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অজয় রায়। তাঁর দাবি, বিজেপি আইটি সেল এবার তাঁর মাছ খাওয়ার একটি ফেক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ছবি প্রকাশ করতে চলেছে। পাশাপাশি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এআই ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করার অভিযোগ
বরাসীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় বলেন, “বিজেপির হাতে এখন ক্ষমতা ও শাসন রয়েছে, তাই তারা যেকোনো কিছু করতে পারে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার মাছ খাওয়ার একটি এআই ছবি পোস্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, বিজেপি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও ব্লক করে দিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন এই কংগ্রেস নেতা।
উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের বাড়ন্ত শক্তি ও চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ
রাজ্যে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে অজয় রায় বলেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এখন স্বীকার করছেন যে উত্তরপ্রদেশের লড়াই সরাসরি বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যেই হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে কংগ্রেসের শক্তি দিন দিন বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ পূর্ণভাবে তাঁদের পাশেই রয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের এক লক্ষ চাকরি দেওয়ার ঘোষণাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে অজয় রায় বলেন, এটি সাগরে এক ফোঁটা জলের শামিল। বেকার যুবকদের প্রতি বছর দুই কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তা রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজ্যের মানুষ আর বিজেপির মিথ্যা প্রলোভনে পা দেবেন না বলেও দাবি তাঁর।
নিষাদ সম্প্রদায় ও বিএসপি নিয়ে মন্তব্য
অযোধ্যায় মাছ খাওয়া সংক্রান্ত বিতর্ক এবং হনুমান গড়ি মন্দিরের পুরোহিত রাজু দাস কর্তৃক নিষাদ সম্প্রদায়ের নেতা কুঁয়র সিং নিষাদকে অপমানের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন অজয় রায়। তাঁর দাবি, এই ঘটনার জেরে নিষাদ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁরা দলে দলে কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
পাশাপাশি, আসন্ন নির্বাচনে বিএসপি প্রধান মায়াবতীর একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন অজয় রায়। তাঁর সরাসরি মন্তব্য, মায়াবতী আসলে বিজেপির স্বার্থেই একা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কৌশল নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে এটি আবারও প্রমাণিত হয়ে গেল যে বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি আদতে বিজেপিরই ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছে।