মোটে ৩% মহিলার হাতে পাকা চাকরি! নীতি আয়োগের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দেখলে চোখ কপালে উঠবে

২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের কর্মসংস্থানের চিত্র। সম্প্রতি নীতি আয়োগের প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে ভারতের নারী কর্মসংস্থানের এক উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের মাত্র ৩ শতাংশ মহিলা ফর্মাল বা আনুষ্ঠানিক সেক্টরে চাকরি করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৭১ শতাংশ মহিলা হয় ইনফর্মাল বা অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কাজ করছেন, নয়তো বেকারত্বের নানা স্তরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
‘Reimagining Skilling for Viksit Bharat@2047’ শীর্ষক ১০৩ পাতার ওই রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কোথায় আটকে রয়েছে নারীদের অগ্রগতি?
নীতি আয়োগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান দক্ষতা বা স্কিলিং ব্যবস্থা সকলের জন্য এক ছাঁচে তৈরি, যা বাস্তবসম্মত নয়। মহিলাদের জন্য বিশেষ ও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কর্মরত মহিলারা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে গিয়ে মূলত আর্থিক সংকট, সাশ্রয়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অভাব, কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তার অভাব এবং নিরাপত্তার মতো বহুবিধ সমস্যার মুখোমুখি হন।
পাশাপাশি, কঠোর প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো, ভৌগোলিক দূরত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব এবং যাতায়াত সংক্রান্ত নানা বাধার কারণে তাঁরা পিছিয়ে পড়তে বাধ্য হন। কাঠামোগত এই সমস্ত সমস্যার কারণেই বহু মহিলা এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষ ফর্মাল চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। অনেক সময় প্রশিক্ষণ নিয়েও উপযুক্ত কাজের অভাবে সেই দক্ষতা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানে রূপ নিতে পারে না।
এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বহু মহিলা বাধ্য হয়ে ঘরে বসেই ছোট ব্যবসার পথ বেছে নিচ্ছেন। যদিও সেখানে সময়ের কিছুটা নমনীয়তা থাকে, কিন্তু মূলধনের জোগান, বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং সঠিক সিদ্ধান্তের অভাব তাঁদের যাত্রাকে কঠিন করে তোলে। এছাড়াও সামাজিক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তা ব্যবস্থার অভাব নারী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের সামগ্রিক শ্রমশক্তির চিত্র কী বলছে?
এই রিপোর্ট প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সার্বিক কর্মসংস্থানের একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী—
দেশের প্রায় ৭৯.৬ কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৫৪.৯ শতাংশ এখনও শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছেন।
এর মধ্যে প্রায় ২৯ কোটি মানুষ নানা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়া।
অন্যদিকে, দেশের মোট শ্রমশক্তির পরিমাণ প্রায় ৬৫.৪ কোটি। এর মধ্যে ৫৮.৪ শতাংশ মানুষ স্বনিযুক্ত, ২১.৭ শতাংশ নিয়মিত বেতনভোগী এবং ১৯.৮ শতাংশ নৈমিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এছাড়া কৃষি-বহির্ভূত কর্মক্ষেত্রে মাত্র প্রায় ৭ কোটি মানুষের একটি সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অসম্ভব। তাই নীতি আয়োগের এই রিপোর্টের পর নারী কর্মসংস্থানে গতি আনতে প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকরা কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।