‘বেছে বেছে টাকা দেওয়া হচ্ছে!’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিজেপি সরকারকে কড়া আক্রমণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

সোমবার রাজ্য রাজনীতিতে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বাকযুদ্ধ সামনে এল। বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শাসক শিবির এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাছবিচার করছে এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও বহু মহিলা নিয়মিত এই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ধর্ম বা বর্ণের পরিচয় দেখে এই প্রকল্পের টাকা বিলি করা হচ্ছে, যা জনবিরোধী নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাসক শিবিরের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু পাল্টা পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের এই জনমুখী প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে গিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রায় ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম সুবিধাভোগীও এই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন বলে তিনি স্পষ্ট করে জানান।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মমতার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের ফর্ম পূরণ করিয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় আসার পর নিয়মিত অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এক মাস টাকা দেওয়ার পর তা অনিয়মিত হয়ে পড়ছে এবং পুজো পর্যন্ত এই সুবিধা টিকিয়ে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মহিলারা মাসে নির্ধারিত ৩ হাজার টাকা সময়মতো পাচ্ছেন না এবং এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে తీవ్ర ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
মমতার এই সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা বর্ণ দেখা হচ্ছে না। সমস্ত যোগ্য উপভোক্তা—তিনি হিন্দু হোন বা মুসলিম, কিংবা শাসক বা বিরোধী দলের সমর্থক—স্বচ্ছতার সঙ্গেই এই আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। বিরোধীদের এই বিষয়ে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতিটি যোগ্য নাগরিকই ধীরে ধীরে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিতভাবে পাবেন।