রাম মন্দিরের অনুদানের দুর্নীতি ফাঁস করতেই কি কোপ? গ্রেপ্তারি এড়াতে কেন সোজা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন সাংবাদিক?

গত ১৮ আগস্ট গাজিয়াবাদের শিপ্রা মলের কাছে একটি সাধারণ গাড়ি ও মোটরবাইকের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত হয়। মোটরবাইকের চালক ১১২ নম্বরে ফোন করে সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর পাল্টা দাবি, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং তাঁকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চাপ ও পুলিশি তৎপরতা
অভিষেকের আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানকার স্থানীয় দোকানদারদের ওপর পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ লোপাট করা হলে তিনি নিজেকে নির্دوس প্রমাণ করতে সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন। এমনকি তাঁকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে গত ২০ আগস্ট তাঁর বাড়িতেও পুলিশ হানা দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
এলাহাবাদ হাই কোর্টে না গিয়ে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কারণ হিসেবে অভিষেক জানিয়েছেন, হাই কোর্টে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশ বা পরিস্থিতি তাঁর নেই, কারণ আদালতে পৌঁছানোর আগেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে এবং তাঁর শারীরিক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।
রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপ ও বিতর্কের আবহ
সম্প্রতি ইউটিউবে নিজের জনপ্রিয় চ্যানেলে অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়। তাঁর সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনার তদন্তে যোগী সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। এই ইস্যুতে শাসক শিবিরকে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে চলেছে বিরোধীরা। এমন এক স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত আবহে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হওয়ায় নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):
সাংবাদিকের বিস্ফোরক অভিযোগ: রাম মন্দিরে অনুদান দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আনার কারণেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিষেক উপাধ্যায়ের।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন: গ্রেপ্তারি ও শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় এলাহাবাদ হাই কোর্ট এড়িয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এফআইআর খারিজ বা নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক।
গাড়ির ধাক্কা থেকে বিতর্ক: গাজিয়াবাদের শিপ্রা মল সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার জন্য স্থানীয় দোকানদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।