শাহরুখ খানের স্বপ্নের প্রাসাদ ‘মন্নত’ কেনার নেপথ্য ইতিহাস: মাত্র চার বছরে ব্যাঙ্ক লোন শোধ করে কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই ল্যান্ডমার্ক?

মুম্বইয়ের মায়ানগরীতে শুরুর দিনগুলোতে নিজের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল না শাহরুখ খানের। স্ত্রী গৌরীকে নিয়ে প্রথমে তিনি পরিচালক আজিজ মির্জার বাড়ির একটি ছোট ঘরে এবং পরবর্তীতে তাজ হোটেলের কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে দিন কাটিয়েছিলেন। তবে নিজের একটি স্বপ্নের আস্তানা গড়ে তোলার জেদ সবসময়ই তাঁর মনে ছিল। ২০০১ সালে সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ পায়, যখন তিনি ঐতিহাসিক বাংলোটি কিনে নেন।
তবে সেই সময় ‘মন্নত’ কেনার পথটি একেবারেই সহজ ছিল না। বাংলোটি কিনতে সেকালে শাহরুখের খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সময় অভিনেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল মাত্র ২ কোটি টাকা! নিজের কাজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেই বাকি অর্থ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করেন তিনি। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, কেনার সময় বাড়িটির বহু অংশ বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু তা মেরামত করার মতো যথেষ্ট অর্থ তখন তাঁর হাতে না থাকায়, তিনি স্ত্রী গৌরীকে দায়িত্ব দেন অল্প খরচে মনের মতো করে বাড়িটি সাজিয়ে তুলতে। গৌরীর রুচিশীল নকশাতেই আজ এই ঐতিহাসিক বাংলোটি পূর্ণতা পেয়েছে। এরপর দিনরাত এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাত্র চার বছরের মধ্যেই ব্যাংকের সমস্ত ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করে দেন অভিনেতা।
মন্নত ঘিরে এক জৌলুসপূর্ণ ইতিহাস
মন্নতকে ঘিরে রয়েছে এক অভিনয় ও রোমাঞ্চকর তথ্য। জানা যায়, শাহরুখের আগে এই ঐতিহাসিক বাংলোটি কেনার কথা ছিল খোদ সলমন খানের! দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তাও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাবা সেলিম খানের এক কথায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন সলমন। সেলিম খান তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “এত বড় বাড়ি নিয়ে একটা মানুষ করবেটা কী?” বাবার সেই যুক্তি ও পরামর্শ মেনে সলমন পিছিয়ে আসায় বাংলোটির স্বত্ব হাতবদল হয়ে শেষ পর্যন্ত চলে যায় শাহরুখ খানের হাতে, যা আজ মুম্বই তথা দেশের অন্যতম প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):
মন্নতের বিশাল মূল্য: বর্তমানে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকার বাজারমূল্য বিশিষ্ট শাহরুখ খানের সমুদ্রমুখী প্রাসাদ ‘মন্নত’।
অর্থনৈতিক সংগ্রাম: ২০০১ সালে ৩০ কোটি টাকায় বাড়িটি কেনার সময় শাহরুখের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ২ কোটি টাকা ছিল, বাকি অর্থ ব্যাংক ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।
চার বছরের মধ্যে ঋণমুক্তি: দিনরাত এক করে কঠোর পরিশ্রম করে মাত্র চার বছরের মাথায় ব্যাংকের সমস্ত লোন শোধ করে দেন শাহরুখ।
সলমন খানের হাতবদল: বাবার যুক্তির কারণে সলমন খান পিছিয়ে যাওয়ায় বাংলোটি কেনার সুযোগ পান শাহরুখ খান।