স্বামীর পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি ব্যাগে ভরছিল স্ত্রী! হরিয়ানার এই রোমহর্ষক কাণ্ডে স্তব্ধ পুলিশও

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল পুলিশ। ঘুমন্ত বা ঘরোয়া বিবাদের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খুনের পর মৃত স্বামীর পেট কেটে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করার মতো রোমহর্ষক ঘটনায় স্তম্ভিত তদন্তকারীরাও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত রাজেশ উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা ছিলেন। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী বিমলা দেবীকে নিয়ে কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডের রাজ প্যালেস এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গত এক বছর ধরে তাঁরা এই ঠিকানাতেই বসবাস করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে দম্পতির মধ্যে বচসা শুরু হয়। আওয়াজ শুনে বাড়ির মালিক রিঙ্কু উপরে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে রাজেশের দেহ। তাঁর পেট ১৪ ইঞ্চিরও বেশি চেরা ছিল এবং ভেতর থেকে অন্ত্র বেরিয়ে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী বাড়িওয়ালা জানান, তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত স্ত্রী বিমলা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সেই নাড়িভুঁড়ি একটি ব্যাগে ভরার চেষ্টা করছে। হঠাৎ বাড়িওয়ালাকে সামনে চলে আসতে দেখে ঘাবড়ে যায় ওই মহিলা। এরপর তড়িঘড়ি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে সে ছাদ থেকে লাফ দেয়। এতে সে নিজেও জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ এসে জখম গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, রাজেশের পেট ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে কাটা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর শরীরের যকৃৎ ও বাঁ দিকের কিডনির বড় অংশ উধাও। এই অঙ্গগুলি ঠিক কোথায় গেল বা কী উদ্দেশ্যে সেগুলি সরানো হলো, তা নিয়ে গভীর রহস্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিন ধরনের ছুরি উদ্ধার করেছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অভিযুক্ত স্ত্রীকে জেরা করে আসল সত্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *