টাকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর তরজা! ‘অন্তর্ঘাত’ ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক?

রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়ার আনন্দে যখন সাধারণ মানুষ মেতে উঠেছেন, ঠিক তখনই এই প্রকল্প ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অগস্ট মাসে প্রায় এক কোটি পঁয়তাল্লিশ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে তিন হাজার টাকা। এই অনুদান পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিভিন্ন জেলায় মহিলারা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন, চলছে নানা উদযাপনও। তবে এর মধ্যেই একাংশের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে পারদ চড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রথম থেকেই এই জটিলতার নেপথ্যে শাসকদলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা পাল কিংবা অর্জুন সিংদের মতো নেতারা আগেই দাবি করেছিলেন যে, গোটা ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করতে এবং সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। এবার সেই একই সুরে সুর মেলালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও।
রবিবার হাওড়ায় বিজেপির একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন শমীক। তিনি জানান, কোথাও কোথাও প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু বিচ্যুতি থাকতে পারে, তবে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই অন্তর্ঘাত বা নাশকতার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মতে, হয়তো অনেকেই ফর্ম পূরণের সময় সচেতন ছিলেন না, কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা সামান্য ভাতার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন বা প্রকৃত অর্থেই এই অনুদানের হকদার, তাঁদের প্রতিটি পইসাক পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে আরও কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে, অন্নপূর্ণার আর্থিক সহায়তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।