নন্দনের পর্দায় এবার নতুনদের রাজত্ব? টলিউডের শীর্ষ নামদের এই পদক্ষেপে বড় চমক!

নতুনদের কাজ আটকে থাকে রাজনীতির নানা সমীকরণে কিংবা কেবল নতুন পরিচয়ের কারণে বড় মঞ্চে জায়গা পান না বহু উদীয়মান পরিচালক। এই চেনা অচলায়তন ভাঙতে এবং তরুণ প্রতিভাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে এবার একজোট হয়েছে টলিপাড়ার শীর্ষ নেতৃত্ব। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নন্দনে আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ ‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। আগামী ২৮ অগস্ট থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত চলা এই চলচ্চিত্র উৎসবে শর্ট ফিল্ম থেকে শুরু করে তথ্যচিত্র—নতুন প্রজন্মের ক্যামেরার চোখে ফুটে ওঠা নানা গল্প জায়গা করে নেবে।

এই অভিনব উদ্যোগের নেপথ্যে হাত মিলিয়েছেন বিনোদন ও রাজনীতির একাধিক চেনা মুখ। উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা চিফ প্যাট্রনের দায়িত্বে রয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি, চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং জেনারেল সেক্রেটারি পদে রয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ ছাড়া উৎসবের প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করছেন প্রীতম সরকার।

তরুণ প্রজন্মের ফিল্ম মেকারদের উৎসাহ দিতে এই উদ্যোগ নিয়ে ভীষণভাবে আশাবাদী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, “এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হল তরুণ পরিচালকদের কাজের অনুপ্রেরণা দেওয়া। যাঁরা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের সামনে নিয়ে আসা এবং কাজ তুলে ধরার যথাযথ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া। উৎসবে যাঁরা প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করবেন, তাঁদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে।”

কলকাতা হোক কিংবা জেলা স্তর, প্রতিভা যে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে না, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কলকাতা শহর বা তার বাইরে নিজেদের তাগিদে ছবি তৈরি করা সমস্ত তরুণ পরিচালকের জন্যই এটি এক বিরাট সুযোগ। অন্যদিকে, এই উৎসবের মূল তাৎপর্য তুলে ধরে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের ফিল্ম মেকারদের জন্য এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে রাজনীতির চক্কর কিংবা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন হওয়ার কারণে কেউ বঞ্চিত হবেন না। সব মিলিয়ে, নন্দনের পর্দায় নতুন প্রজন্মের ভাবনার লড়াই দেখতে এখন থেকেই মুখিয়ে রয়েছেন সিনেপ্রেমীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *