কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ভূকম্পন জাপানে! টোকিও থেকে হোক্কাইডো—আতঙ্কে কাঁপল দেশ

রবিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। প্রথমে রাজধানী টোকিও সংলগ্ন এলাকায় এবং পরবর্তীতে দেশের উত্তরাংশে হোক্কাইডো প্রদেশে পর পর দুটি ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হোক্কাইডো প্রদেশে ৬.০ মাত্রার কম্পন: জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় হোক্কাইডো প্রদেশে ৬.০ মাত্রার একটি জোরালো ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১০:৪৫ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল হোক্কাইডোর উপকূল থেকে ৪০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের ৭ মাত্রার তীব্রতা স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভূমিকম্পের জেরে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

সকালে টোকিওতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও ক্ষয়ক্ষতি: এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই, রবিবার ভোরে দেশের পূর্বাঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল। সরকারি সংবাদ সংস্থা কিয়োডো নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের জেরে টোকিও এবং তার পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলিতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েকদিন ধরে একই ধরনের আফটারশক বা কম্পন সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

ভোর ২টা নাগাদ হওয়া ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইবারাকি প্রদেশের দক্ষিণ অংশে, যা মাটি থেকে ৬৮ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত ছিল। ইবারাকি এবং মধ্য টোকিওর কিছু অংশে এর তীব্রতা ৫-এর সামান্য কম রেকর্ড করা হয়। এই কম্পনের জেরে জাপানের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে।

রেল পরিষেবা ও জনজীবনে প্রভাব: সকালের এই কম্পনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। জেআর ইস্ট (JR East) সহ একাধিক আঞ্চলিক রেল অপারেটর জানিয়েছে, অনেক ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে এবং সুরক্ষার খাতিরে বহু ট্রেনকে গতি কমিয়ে চলতে হয়েছে। পাশাপাশি, টোবু রেলওয়ের কিছু এক্সপ্রেস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়।

স্থানীয় ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে ভূমিকম্পের জেরে ২০ জনের বেশি মানুষ জখম হয়েছেন। যার মধ্যে সাইতামা প্রদেশের এক যুবক এবং ৭০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা ছাড়াও কানাগাওয়া ও চিবা প্রদেশের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। টোকিওর কোটো ওয়ার্ডে একটি জলের পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা কম্পনের জেরেই হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিলেন। বার বার এই ভূকম্পনের জেরে গোটা দেশজুড়ে সতর্কতা জারি রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *