বাংলাদেশে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংস খুন! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ

বাংলাদেশে ফের এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর শহরে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সহ একই পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা এবং দুই সন্তান আগামী ও প্রীয়ম। এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামের দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ প্রকাশ্যে আনা হয়।
কীভাবে ঘটেছিল এই হত্যাকাণ্ড? রবিবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মহম্মদ আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে ঘটনার রাতে ওই দুই যুবক পাশের একটি বাড়ির ছাদ বেয়ে চক্রবর্তীদের ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা নিষিদ্ধ মাদক সেবন করছিল। সেই সময় শব্দ শুনে ছাদেই চলে আসেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। তিনি ওই দুই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে জানতে চান যে তারা রাতে তাঁর ছাদের ওপর কী করছে।
পুলিশের অনুমান, ছাদেই মাদক সেবনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গণপতির গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ওই দুই ভাই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কোলাহল শুনে ছাদে চলে আসেন তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতাও। তাঁকেও একইভাবে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে দম্পতির দুই সন্তান আগামী ও প্রীয়মকে কীভাবে খুন করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই আকস্মিক উত্তেজনায় ওই দুই যুবক চারজনকে নৃশংসভাবে খুন করে। তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পুরনো কোনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই পরিবারের পূর্বপরিচয় ছিল কি না, তা জানতে নিহতদের পরিচিতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও তাদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।