গলসিতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক সভায় তুমুল হাঙ্গামা! চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল দুই শিবির!

পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে কংগ্রেসের একটি দলীয় সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এল। শনিবারের ওই কর্মসূচিকে ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র বচসা, ঠেলাঠেলি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে চেয়ার-টেবিল ও শামিয়ানা ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
কী নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত? জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শরৎ রাউতের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সভাকে কেন্দ্র করেই এই অশান্তির সূত্রপাত। পুরসার দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের পৌঁছাতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। পাশাপাশি, গলসি বাজারের একটি পৃথক অনুষ্ঠান ভবনেও গলসি ১ ও ২ নম্বর ব্লক নেতৃত্বের তরফ থেকে আলাদা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। দুই পক্ষের তর্কাতর্কি মুহূর্তের মধ্যেই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এমনকি জেলা কংগ্রেস নেতা শেখ হিলালউদ্দিন আহম্মদের ওপর চড়াও হওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দুই শিবিরের পরস্পরকে আক্রমণ: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। গলসি-১ ব্লক সভাপতি শেখ শামসুল হকের অভিযোগ, অভিজিৎ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে এই অশান্তি পাকানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে অধীর চৌধুরীর অনুগামীদের হাত রয়েছে। অন্যদিকে, গলসি-২ নম্বর ব্লক সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান পুরো ঘটনার জন্য জেলা সভাপতির ‘অনুপ্রেরণা’কে দায়ী করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা ঘোষণা করেছেন।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শরৎ রাউত। তাঁর দাবি, “কংগ্রেস একটি বড় পরিবার, মতানৈক্য হতেই পারে। তবে কোনও বড় সংঘর্ষ হয়নি, মূলত বসার জায়গা নিয়েই সামান্য গোলমাল হয়েছিল।”
বিশেষ আপডেট: রাজনৈতিক দলের অন্দরের এই কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে জানান আপনার প্রতিক্রিয়া।