খাদ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ! নেসলে ও কোকা-কোলা সহ ১৫০টির বেশি সংস্থাকে FSSAI-এর কড়া নোটিশ

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে আর কোনও আপস করতে নারাজ খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI)। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে শুরু করে আগস্টের শেষ পর্যন্ত লাগাতার অভিযানের জেরে দেশের বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, মিথ্যা লেবেল দাবি এবং পণ্যের মান সংক্রান্ত গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই নেসলে ইন্ডিয়া, পেপসিকো, কোকা-কোলা ইন্ডিয়া, রেড বুল এবং ক্যাডবেরির মতো দেশবিদেশের দেড় শতাধিক সংস্থাকে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সাম্প্রতিক তদন্তে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গুজরাটের ভাদোদরায় ভেজাল ক্ষারীয় জল বা অ্যালকালাইন ওয়াটারের একটি বিশাল ভাণ্ডার জব্দ করা হয়েছে, যেখানে প্যাকেটে ছিল না কোনও উপাদানের সঠিক তথ্য। অন্যদিকে, দিল্লির ওখলায় একটি বড় গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজারেরও বেশি পণ্যের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ব্যাচ নম্বর মুছে নতুন করে মুদ্রণ করার মতো গুরুতর জালিয়াতি ধরা পড়ে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
শুধু খাদ্য পণ্যই নয়, এনার্জি ড্রিংকস প্রস্তুতকারক সংস্থা যেমন রেড বুল, মনস্টার এবং স্টিং-এর বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে এফএসএসএআই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট বার্তা, ভারতে আইনগতভাবে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বলে আলাদা কোনও বিভাগ নেই, তাই শরীর সতেজ করার মতো বিভ্রান্তিকর দাবি আর চালানো যাবে না। নিয়ম ভাঙায় অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো হেভিওয়েট ই-কমার্স সংস্থাকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এমনকি বাতিল করা হয়েছে ওয়্যারহাউসের লাইসেন্সও। পাশাপাশি, জনপ্রিয় পিজ্জা চেন ডমিনো’স-এর একাধিক আউটলেটের লাইসেন্সও স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এফএসএসএআই-এর এই কঠোর পদক্ষেপ এক নতুন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন আর শুধু পণ্যের গুণমান নয়, বিজ্ঞাপনের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি এবং প্যাকেজিংয়ের প্রতি লাইনের সত্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য কোম্পানিগুলি। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারির মাঝে এই অভিযান আগামী দিনে খাদ্য ও পানীয় বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতখানি প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।