প্রতিবেশীদের জন্য মোদীর কড়া বার্তা! জয়শঙ্করের মাস্টারস্ট্রোকে কি বদলাবে কূটনীতির সমীকরণ?

পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশ—ভারতের এই তিন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে কূটনীতির ময়দানে পারস্পরিক স্বার্থ এবং সমতার নীতিতেই যে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত অবস্থান তুলে ধরেছেন।

পারস্পরিক স্বার্থই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি:
জয়শঙ্কর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, প্রতিবেশী দেশগুলো সব সময় ভারতের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, নয়াদিল্লি এমনটা আশাও করে না। যেকোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তাঁর কথায়, “এটি যেমন তাদের জন্যও কাজ করতে হবে, তেমনই আমাদের জন্যও কাজ করতে হবে।” দুই পক্ষই যখন কোনো সাধারণ বোঝাপড়ার জায়গা খুঁজে পায়, তখনই কেবল সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও তারেক রহমানের সফর:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং এই ইস্যুর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সংক্রান্ত গুঞ্জনের বিষয়েও মুখ খুলেছেন বিদেশমন্ত্রী। যদিও আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে তিনি নারাজ, তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে। এই আবহে তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর এবং সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানকে কড়া সমালোচনা:
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে দেশের জনমতকে উপেক্ষা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়েও কথা বলেন তিনি। জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত তার নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় এই সমস্ত কৌশলগত পদক্ষেপ এবং চুক্তিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করবে।

চিনের সঙ্গে সম্পর্কে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত:
চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী জানান, সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতিশীলতাই দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে। ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে ভারত ও চিন উভয় দেশই যে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারের জন্য একে অপরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত চিন হোক বা অন্য কোনো দেশ, ভারতের নিজস্ব শক্তি বাড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *