ভারতে ব্যান হচ্ছে মুসলিমদের বহুবিবাহ? জেনেনিন কি বলছে সুপ্রিম কোর্ট?

তিন তালাক বাতিলের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রায় নয় বছর পর এবার মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি প্রদানকারী মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সাংবিধানিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে জবাব তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
কী বলা হয়েছে পিটিশনে?
ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন (BMMA)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাকিয়া সোমান এবং নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ-সহ পাঁচজন এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন। তাঁদের মূল যুক্তি, মুসলিম পুরুষদের বহুবিবাহের যে আইনি স্বীকৃতি রয়েছে, তা সংবিধানের ১৪, ১৫ এবং ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সমতার অধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক তিন তালাক মামলার অন্যতম আবেদনকারী ছিলেন জাকিয়া সোমান। তাঁর মতে, মুসলিম নারীদের জীবনে প্রকৃত লিঙ্গসামতা নিশ্চিত করতে হলে বহুবিবাহের মতো প্রথাকেও আইনি অপরাধের আওতায় আনা জরুরি।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭-এর ২ নম্বর ধারাটিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মুসলিম বিবাহ বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্তকরণ (Registration) এবং প্রথম স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের আইনি সুরক্ষা বা শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ী অধিকার দেওয়ারও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আদালতের আগের অবস্থান ও আইনি বিতর্ক
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শায়েরা বানো বনাম কেন্দ্র সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তবে সেসময়ে আদালত বহুবিবাহ এবং ‘নিকাহ হালালা’-র মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এর আগে ১৯৯৫ সালের সরলা মুদগল মামলা বা ২০০০ সালের লিলি থমাস মামলায় আদালত রায় দিয়েছিল যে, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেবল দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরিত হওয়া আইনসম্মত নয় এবং তা দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তবে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলাগুলি শুনানির জন্য একটি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ফলে বর্তমান শুনানিতে বহুবিবাহ প্রথাটি ধর্মীয় স্বাধীনতার গণ্ডির (সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ) মধ্যে পড়ে কি না, কিংবা এটি কোরানের বিধানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই সব আইনি প্রশ্নগুলি ফের নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, তিন তালাক মামলার মতোই বহুবিবাহের এই আইনি লড়াই দেশের পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিসরে এক নতুন মোড় আনতে চলেছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।